কোয়ারেন্টাইনে সাঙ্গাকারা-গিলেস্পি

সারা দুনিয়াতেই প্রায় ছড়িয়ে পড়েছে কোভিড-১৯। করোনা ভাইরাসের এই সংক্রমণের কালে অনেক তারকা খেলোয়াড়ই নিয়ম মানার জন্য স্বেচ্ছায় নির্বাসনে থাকছেন। তার মধ্যেই দুজন হলেন সাবেক শ্রীলঙ্কান গ্রেট কুমার সাঙ্গাকারা ও সাবেক অস্ট্রেলিয়ান ফাস্ট বোলার জেসন গিলেস্পি।

শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং তারকা ও এমসিসির বর্তমান সভাপতি সাঙ্গাকারা সরকারের নির্দেশনা অনুসরণ করে ইউরোপ থেকে ফেরার পর কোয়ারেনটাইনে আছেন। ইউরোপেই এখন করোনা ভাইরাসের প্রতাপ চলছে সবচেয়ে বেশি।

ইংল্যান্ড থেকে দেশে ফেরার পর নিজেকে কোয়ারেনটাইন রাখা সাঙ্গাকারা বলেছেন, ‘আমার কোনো উপসর্গ বা কোনো ধরনের লক্ষণ নেই। তারপরও আমি সরকারি নির্দেশনা মেনে চলছি। এক সপ্তাহের বেশি হলো, আমি লন্ডন থেকে ফিরেছি। শুরুতেই খবরে যেটি আমার চোখে পড়েছে তা হলো, গত ১ থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত যারা বাইরে থেকে এসেছেন, তারা যেন পুলিশের কাছে নিবন্ধন করেন ও স্বেচ্ছায় কোয়ারেনটাইন থাকেন। আমি কোয়ারেনটাইন আছি, পুলিশের কাছে নিবন্ধনও করেছি।’

সাঙ্গাকারার পাশাপাশি তার কাছের বন্ধু মাহেলা জয়াবর্ধনে, আরো অনেক বর্তমান ও সাবেক ক্রিকেটার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণা চালাচ্ছেন নিয়ম মানতে। জয়াবর্ধনে তার টুইটারে সতর্ক থাকার নিয়ম কানুন পোস্ট করেছেন। ভাইরাসের বিস্তার এড়াতে শুক্রবার বিকেল থেকে কারফিউ চলছে শ্রীলঙ্কায়।

শ্রীলঙ্কায় গতকাল পর্যন্ত ৮০ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী সনাক্ত হয়েছেন। সারা বিশ্বে ১৪ হাজারেরও বেশি মানুষ মারা গেছেন।

এদিকে ইংল্যান্ড থেকেই অস্ট্রেলিয়ায় ফিরেছেন সাবেক পেসার গিলেস্পি। তিনিও দুই সপ্তাহের জন্য আইসোলেশনে গেছেন। গিলেস্পিন এখন সাসেক্সের প্রধান কোচ। তিনি সর্বশেষ দলের সঙ্গে প্রাক মৌসুম সফরে কেপ টাউনে গিয়েছিলেন। করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর সেই সফর সংক্ষিপ্ত করে তারা ইংল্যান্ডে ফিরে আসেন।

এরপর সেখান থেকে দেশে ফেরা গিলেস্পি বলেছেন, ‘বর্তমান যে ঘটনা চলছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে আমি ও সাসেক্স আলোচনা করে দেখেছি যে, আমার অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে আসাটাই ভালো। এখন আমি দুই সপ্তাহের জন্য আইসোলেশনে থাকব। আমি সবার সতর্কতার জন্য বলছি। সবাই অনুগ্রহ করে ঘরে থাকুন। এটাই আমাদের হাতে একমাত্র উপায়।’

এরপর গিলেস্পি বলেছেন, সাসেক্স সবসময়ই খেলোয়াড় ও কোচদের নিয়ে ভাবিত। সে জন্যই তারা প্রাক মৌসুম সফর সংক্ষিপ্ত করেছেন, ‘আমাদের ক্লাব সাসেক্স খেলোয়াড় ও কোচিং স্ট্যাফদের খুব যত্ন নিয়ে থাকে। আমরা কেপ টাউনে আমাদের প্রাক মৌসুম সফর সংক্ষিপ্ত করে ফিরে এসেছি। আমাদের ক্লাবের সবচেয়ে অগ্রাধিকার হলো খেলোয়াড় ও কোচদের সুস্থ থাকা।’