ভয়ানক এক পরিস্থিতির ভিতর দিয়া যাইতেছি আমরা। করোনা ভাইরাস দেশের অর্থনীতিতে এক বড়ো হুমকি হইয়া দাঁড়াইয়াছে। সকল কিছু বন্ধ, বিচ্ছিন্ন হইয়া যাওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্য চালু রাখা যাইতেছে না। আপনা-আপনি বন্ধ হইয়া যাইতেছে কলকারখানা। সরকারও সাধারণ ছুটি ঘোষণা করিয়াছে। সীমিত আকারে কার্যক্রম চালাইবার ঘোষণা দিয়াছে খোদ কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বেসরকারি খাতের সঙ্গিন দশায় নিয়মিত বেতন-ভাতাদি দেওয়া আর সম্ভব হইতেছে না। অথচ তাহাদের দায় রহিয়াছে বেতন-ভাতা পরিশোধের। করোনার পূর্বে বিশ্বব্যাপী মন্দার রেশ তো ছিলই। দুই মিলাইয়া সচল অর্থনীতিকে স্থবির করিয়া দিয়াছে। এই অবস্থায় ব্যবসা না চলিলে বেতন-ভাতাদি দিবার সুযোগ বন্ধ হইয়া যাইবার উপক্রম হইবে। তাহা হইলে দেশের মানুষ আয় না থাকিলে জীবনযাত্রার ব্যয় মিটাইবে কীভাবে? করপোরেট হাউজগুলির অনেকে চলতি মাসের বেতন দিতে পারিবে কি না—তাহা লইয়াও সংশয় রহিয়াছে। এই সময়ে তাহাদের সামনেও বিকল্প কী? এখন ব্যবসা টিকাইয়া রাখিতে, কর্মী-সাধারণের রোজকার খরচ জোগাইতে সরকারের উদ্যোগের দিকে চাহিয়া আছেন সকলেই। অন্যান্য দেশেও করোনা ভাইরাসের ভয়াল থাবায় সাধারণের দৈনন্দিন ব্যয় নির্বাহ করিতে সরকার নগদ অর্থসংস্থানের ব্যবস্থা করিয়াছেন। লোকজনকে ঘরে থাকিবার নির্দেশনা দিয়া সরকারিভাবে আর্থিক সুবিধা দেওয়া হইতেছে। বাংলাদেশেও তদ্রূপ সুবিধাদি এখন জরুরি হইয়া দাঁড়াইয়াছে। অবিলম্বে আর্থিক সুবিধার ঘোষণাও কার্যকর করিলে মানুষের মধ্যে যে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়াছে তাহার কিছুটা লাঘব হইবে।
শোনা যাইতেছে যে, সরকার আর্থিক প্রণোদনা কর্মসূচি নেওয়ার কথা ভাবিতেছে। প্রাথমিক ভাবে পোশাকশিল্পসহ নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এই উদ্যোগের চিন্তা করা হইতেছে। ইহা কার্যকর করা হইলে নিঃসন্দেহে সাধুবাদ পাইবার যোগ্য। তবে নিম্নমধ্য আয়ের মানুষের কষ্টের কথাও ভাবিতে হইবে। যাহারা অবস্থানগত কারণে নিজেদের কথা অন্যকে বলিতে পারে না। আবার ব্যবসায়ী উদ্যোক্তাগণকে বিশেষ সুবিধার ব্যবস্থা না করিলে কর্মসংস্থানে ব্যাঘাত ঘটিবে। যাহা অর্থনীতিকে আগাইয়া লইবার ক্ষেত্রে বাধা হইয়া দাঁড়াইবে।
বলা হইতেছে, সকল ব্যাংকের কার্যক্রম সীমিত আকারে চলিবে। এমনিতেই ব্যাংকগুলি তারল্য সংকটে ভুগিতেছে। ঋণ দেওয়ার সীমাও অনেক ব্যাংক অতিক্রম করিয়াছে। করোনার প্রভাবের পর ব্যাংকগুলি এখন গ্রাহকদের টাকা সরবরাহ করিতে বেশ গড়িমসি করিতেছে। কোনো কোনো ব্যাংক পুঁজির সংকটে ভুগিতেছে। গ্রাহককে টাকা দেওয়ার ক্ষেত্রে ‘অগ্রাধিকার’ খুঁজিতেছে, যাহা ভোগান্তিরই শামিল। সংকটে থাকা, বিশেষ করিয়া দুর্বল হইয়া পড়া ব্যাংকগুলির জন্যও কিছু করণীয় নির্ধারণ করিয়া দিলে উভয়ের জন্যই মঙ্গলজনক। সরকার পোশাকশিল্পকে উপশম করিবার কথা ভাবিতেছে, তাহা সকল ব্যাংকের ক্ষেত্রেও প্রয়োজন। সর্বোপরি, বিশেষ প্রণোদনার মাধ্যমে দেশে যথেষ্ট অর্থ সরবরাহ নিশ্চিত করিতে না পারিলে খাদ্যের মজুত কিংবা ঔষধের সহজলভ্যতার কথা বলিলেও লাভ হইবে না। মানুষের ক্রয়সক্ষমতা চালু রাখিবার ব্যবস্থাই হইবে করোনার সম্ভাব্য মানবিক বিপর্যয় এড়াইবার বড়ো নিয়ামক।