জন্মসূত্রে আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। পৃথিবীর প্রতিটা মানুষই কোনো না কোনো দেশের নাগরিক। নাগরিক হিসেবে আমরা প্রত্যেকে সরকার ও দেশের থেকে নানারকম সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে থাকি। আর নাগরিক হিসেবে শুধু নাগরিক সুবিধা ভোগ করা পর্যন্তই একজন নাগরিকের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না, রাষ্ট্রের প্রতিও প্রতিটা নাগরিকের কিছু দায়িত্ব, কর্তব্য থাকে। আর এই দায়িত্ব-কর্তব্য যারা মেনে চলেন তারাই সুনাগরিক। একজন সুনাগরিক দেশের সম্পদ, দশের সম্পদ। বর্তমান সময়ে সবাই ব্যক্তিস্বার্থ নিয়ে ব্যস্ত, অথচ সুনাগরিকের সংজ্ঞায় আছে যিনি বৃহত্ স্বার্থে ক্ষুদ্র স্বার্থ ত্যাগ করেন তিনিই সুনাগরিক। একটি দেশে লক্ষ, কোটি মানুষ বাস করে কিন্তু সুনাগরিকের সংখ্যার ওপর নির্ভর করে প্রকৃত জনসংখ্যা ও দেশের উন্নতি। যে দেশ বা জাতি যত উন্নত হয়েছে তার উন্নতির পিছনে সবচেয়ে বড়ো অবদান আছে সে দেশের বা জাতির সুনাগরিকদের। আমাদের দেশের মতো আয়তনে ছোটো ও জনবহুল দেশের জন্য সুনাগরিকের প্রয়োজন অত্যাবশ্যকীয়। কিন্তু এটা খুবই হতাশাজনক যে আমাদের দেশে সুনাগরিকের বড্ড অভাব। যেমন দেখুন দুই মাস আগে আমাদের দেশে পেঁয়াজ নিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও আড়তদাররা কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছিল। সামান্য একটা মসলা দ্রব্য নিয়ে পুরো দেশ মাতামাতি শুরু করল, একটা মসলা দ্রব্য সংকট কি খুব বড়ো সমস্যার কারণ হতে পারে কোনো দেশের জন্য? তারপর একটু পিছনে তাকালে আমরা দেখতে পাব রোহিঙ্গাদের জাল পরিচয়পত্র তৈরি করে দিল কিছু ক্ষমতাধর ব্যক্তি। এর মাধ্যমে তারা দেশের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ল। রোহিঙ্গা সমস্যা বাংলাদেশের জন্য কত বড়ো সমস্যা জানার পরও কিছু মানুষ নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য তাদের এমন জাল পরিচয়পত্র তৈরি করে দেওয়ার চেষ্টা করল। এমনকি তাদের দেশের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তেও কতিপয় ব্যক্তির তত্পরতা আমরা সংবাদ মাধ্যমে সবাই দেখতে পাই। একবারও কি আমরা ভেবে দেখেছি এটা আমাদের উন্নতির কত বড়ো অন্তরায় হতে পারে? এরই মধ্যে আমরা সবাই জানি করোনা ভাইরাস বিশ্ব জুড়ে এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। এই ভাইরাসের প্রকোপ যে দেশে বেশি হয়েছে সেই দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম কমিয়ে এনেছে সেসব দেশের ব্যবসায়ী বা কোম্পানিগুলো। কিন্তু আমাদের দেশে সম্পূর্ণ ভিন্ন অবস্থা, করোনা ভাইরাস লোকমুখে প্রচারিত হওয়াই অসাধু কিছু ব্যবসায়ী ও আড়তদার নিজের ব্যক্তিস্বার্থ সিদ্ধির জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে, এমনকি মাস্ক, সাবান ও হ্যান্ড স্যানেটাইজারের দামও বাড়িয়ে দিয়েছে দোকানদারগুলো। যেখানে দোকানদার ও কোম্পানিগুলোর উচিত এগুলোর দাম কমিয়ে আরো সহজলভ্য করা যাতে সাধারণ মানুষকে সুরক্ষায় এগুলো ব্যবহার করতে পারে। যে সব মানুষ ঠিকমতো তিনবেলা খেতে পারে না পেটপুরে তাদের কথা ভেবে দেখুন তো তারা কীভাবে এতো দাম দিয়ে খাবার খাবে নাকি সুরক্ষা গ্রহণ করবে? আমাদের আশেপাশে এমন অনেককেই দেখা যাচ্ছে যারা কয়েক মাসের খাবার কিনে রাখছে, সঙ্গে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিতে সহায়তা করছে। একবারও ভেবেছেন আপনারা? যে মানুষটাকে আপনি পারিশ্রমিক না দেওয়া পর্যন্ত তার পরিবারের সদস্যরা না খেয়ে থাকে সেই মানুষগুলো কীভাবে খাবার মজুত করবে? কতিপয় স্বার্থান্বেষী মানুষের জন্য সুনাগরিক কথাটি প্রশ্নবিদ্ধ আজ। আসুন আমরা সবাই ক্ষুদ্র স্বার্থ ত্যাগ করে বৃহত্ স্বার্থের কথা ভাবি। সুনাগরিকের গুণাবলিগুলোকে নিজের মধ্যে লালন করি। অহেতুক খাদ্য মজুত থেকে সবাই বিরত থাকি এবং অন্যদের পরামর্শ দেই।
n লেখক :শিক্ষার্থী, ইসলামী
বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।