রাতের আঁধারে টাস্কফোর্সের নামে মোবাইলকোর্ট বসিয়ে সাংবাদিক আরিফুল ইসলামকে সাজা দেওয়ার ঘটনায় কুড়িগ্রামের তত্কালীন ডিসি সুলতানা পারভীনসহ চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এজাহার হিসেবে গণ্যের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। গত ১৯ মার্চ চার জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করলেও তা এজাহার হিসেবে গ্রহণ করেননি কুড়িগ্রাম সদর থানার ওসি। বিষয়টি রিট মামলার শুনানিতে উঠে এলে হাইকোর্ট থেকে সাংবাদিক আরিফের করা ঐ অভিযোগ এজাহার হিসেবে গ্রহণ করতে ওসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এসংক্রান্ত রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের অবকাশকালীন ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল সোমবার এই আদেশ দেয়। এ ছাড়া মোবাইলকোর্ট কর্তৃক আরিফকে এক বছরের দেওয়া সাজার আদেশ ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ঐ মোবাইলকোর্টের পরিচালিত কার্যক্রম কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে আদালত।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর উদ্দেশে হাইকোর্ট বলেছে, ‘কোনো সাধারণ নাগরিক যখন থানায় অভিযোগ দেবে, তখন তা অন্তর্ভুক্ত করে তদন্ত করাই ওসির দায়িত্ব। কিন্তু সাংবাদিক আরিফের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম দেখতে পাচ্ছি। এই যদি হয় অবস্থা, তাহলে সাধারণ মানুষের কী হবে?’ আদালত বলেছে, থানায় ফোন করে কেউ অভিযোগ দিলে সেটা নিতে হবে। তারপর তদন্ত করে জানাতে হবে কী আছে কী নেই। অভিযোগ গ্রহণ করাই ওসির প্রধান দায়িত্ব। কারণ ফৌজদারি মামলায় সময়টা খুব গুরুত্বপূর্ণ।
প্রসঙ্গত, কুড়িগ্রামের তত্কালীন ডিসি সুলতানা পারভীনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন করার অভিযোগে সাংবাদিক আরিফকে ১৩ মার্চ মধ্যরাতে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে নির্যাতন ও মোবাইলকোর্ট বসিয়ে সাজা দেওয়া হয়। ঐ অভিযোগের সত্যতা পেয়ে ডিসি সুলতানা, সহকারী কমিশনার (এসি) রিন্টু বিকাশ চাকমা, সিনিয়র সহকারী কমিশনার (রাজস্ব) (আরডিসি) নাজিম উদ্দীন ও সহকারী কমিশনার (এসি) এস এম রাহাতুল ইসলামকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। পরদিন তড়িঘড়ি করে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয় আরিফকে। এরপরই ডিসিসহ চার জনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে এজাহার দাখিল করেন আরিফ। কিন্তু কুড়িগ্রাম সদর থানার ওসি ঐ অভিযোগ এজাহার হিসেবে গণ্য না করে তা ফেলে রাখেন।
আরিফের করা রিট আবেদনের পক্ষে আইনজীবী ইশরাত হাসান ও রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল প্রতিকার চাকমা শুনানি করেন। পরে আরিফ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার প্রত্যাশা, আমি ন্যায়বিচার পাব।’