করোনা ভাইরাসের কারণে স্থগিত হয়ে গেছে বঙ্গবন্ধু ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগ। গত ১৫ মার্চ শুরুর পর এক রাউন্ড শেষে লিগের খেলা স্থগিত করা হয়। পরে করোনার কারণে ১৯ মার্চ অনির্দিষ্টকালের জন্য লিগ স্থগিতের ঘোষণা দেন বিসিবির সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। গত ২ থেকে ৫ মার্চ ঢাকা ও সিলেটে লিগের জন্য ক্রিকেটারদের দলবদল অনুষ্ঠিত হয়েছিল। প্লেয়ার বাই চয়েজ বাদ দিয়ে উন্মুক্ত পদ্ধতির এই দলবদলে ফিরেছিল বিসিবি ক্রিকেটারদের দাবির মুখেই।
পুলহীন এই দলবদলে দৃশ্যত লাভবান হয়েছেন ক্রিকেটাররা। কিন্তু লিগের নিয়ন্ত্রক সিসিডিএমের (ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিস) এক বিশেষ শর্তের কারণে উলটো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ক্রিকেটাররা। একই শর্তে লাভবান হয়েছে ক্লাবগুলো।
উন্মুক্ত পদ্ধতির কারণে ক্রিকেটারদের দলবদল হয়েছে নির্দিষ্ট অঙ্কে। এবং সেটা ক্লাবগুলোর সঙ্গে দরকষাকষি করেই মিটিয়েছেন ক্রিকেটাররা। কিন্তু দলবদলের ফর্মে ম্যাচ ভিত্তিতে পারিশ্রমিকের শর্ত জুড়ে দিয়েছে সিসিডিএম। দলবদলের আগেই সিসিডিএমের নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, এবার প্রিমিয়ার লিগে ক্রিকেটাররা পারিশ্রমিক পাবেন আনুপাতিক হারে।
এমন শর্ত জুড়ে দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন সিসিডিএমের এক কর্মকর্তা। জানতে চাইলে গতকাল তিনি বলেছেন, ‘আসলে এবার ক্রিকেটাররা লিগ শুরুর আগে ৫০ ভাগ, লিগের মাঝে ২৫ ভাগ ও লিগের শেষে ২৫ ভাগ পারিশ্রমিক পাবেন। আমরা জেনেছি, আমাদের অনেক তারকা ক্রিকেটার এবার ক্লাবের সঙ্গে ম্যাচপ্রতি পারিশ্রমিকে চুক্তি করেছেন। কারণ পাকিস্তান সফরের জন্য কিছু ম্যাচ না খেলার কথা ছিল তাদের। সেজন্য যতগুলো ম্যাচ তারা খেলবেন, তত ম্যাচের পারিশ্রমিক নেবেন। এটা প্রো-রাটা বেসিসে হবে। আনুপাতিক হারে পাবেন পারিশ্রমিক। এটা মূলত তারকা ক্রিকেটারদের জন্যই ট্রান্সফার পেপারে উল্লেখ করা হয়েছে। ক্লাব-ক্রিকেটারের সুবিধার জন্যই করা হয়েছে।’
এতে করে কম শক্তির ক্লাবগুলো ও সাধারণ ক্রিকেটাররা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। সিসিডিএমের ঐ কর্তা অবশ্য এমনটা আশা করছেন না, ‘এটা তারকা ক্রিকেটারদের জন্য। অন্য ক্লাবগুলো ১৬ ম্যাচ ধরে করবে না আশা করি।’
জানা গেছে, গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের সঙ্গে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের সঙ্গে তামিম ইকবাল একই নিয়মে চুক্তি করেছেন।
লিগে মোট ম্যাচ থাকছে ১৬টি। যেখানে রাউন্ড রবীন লিগের ১১টি ও সুপার লিগের ৫টি ম্যাচ। তামিম-মাহমুদউল্লাহদের বাদ দিয়ে এই নিয়ম ক্লাবগুলো সব ক্রিকেটারের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করলে সুপার লিগে উঠতে ব্যর্থ হওয়া ক্লাবগুলোর ক্রিকেটাররা আর্থিক দিক থেকে বড়ো ক্ষতির মুখে পড়বেন।
এবার রেকর্ড ৬৫ লাখ টাকায় আবাহনীতে যোগ দিয়েছেন মুশফিকুর রহিম। ক্যারিয়ারে প্রথমবার ধানমন্ডির এই অভিজাত ক্লাবের হয়ে খেলছেন তিনি। লিগের প্রথম ম্যাচেই হয়েছেন আবাহনীর ত্রাতা। নেতৃত্বের পাশাপাশি পারটেক্স স্পোর্টিং ক্লাবের বিপক্ষে ম্যাচে সেঞ্চুরি করে দলকে বাঁচিয়েছেন তিনি।
প্রিমিয়ার লিগে তার ম্যাচপ্রতি পারিশ্রমিক দাঁড়াচ্ছে ৪ লাখ ৬ হাজার ২৫০ টাকা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রতি ওয়ানডের জন্য ৩ লাখ টাকা ম্যাচ ফি পান মুশফিক। সেখানে প্রিমিয়ার লিগে প্রতি ম্যাচে তার পারিশ্রমিক বেশ ভালোই বলতে হবে।
অবশ্য এখন সিসিডিএমের বিশেষ শর্ত নিয়ে ভাবার সময় কই ক্রিকেটারদের। করোনার থাবায় ইতিমধ্যে যে বন্ধ হয়ে আছে প্রিমিয়ার লিগ। দেশের সিংহভাগ পেশাদার ক্রিকেটারের রুটি-রুজির অবলম্বন লিগ স্থগিত হওয়ায় বিপাকে ক্রিকেটাররা। শর্ত থাকলেও লিগ হলে কিছু টাকা পেতেন তারা। এখন লিগটাই অনিশ্চিত। তাই করোনার প্রকোপ থামার প্রার্থনাতেই ব্যস্ত এখন ক্রিকেটাররা।