স্থগিত হলো টোকিও অলিম্পিক

বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের মহামারির আকার ধারণ করার কারণে টোকিও অলিম্পিক এবং প্যারা অলিম্পিক গেমস আগামী বছর পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।

জাপানের টোকিওতে ২৪ জুলাই গেমসটি শুরু হওয়ার কথা ছিল। এখন এটি ২০২১ সালের গ্রীষ্মে অনুষ্ঠিত হবে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে ইন্টারন্যাশনাল অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) কাছে গেমসটি স্থগিত রাখার প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন,‘আমি এক বছরের জন্য প্রস্তাব করি এবং আইওসি সভাপতি থমাস বাখ শতভাগ সম্মতি দেন।’

আগামী বছর অনুষ্ঠিত হলেও গেমসটিকে টোকিও ২০২০ নামেই অভিহিত করা হবে। এ ব্যাপারে টোকিও অলিম্পিকের সংগঠক ও আইওসি যৌথ বিবৃতি দেয়। এতে বলা হয়, ‘নজিরবিহীন ও আচ অনুমানবিহীনভাবে এই ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ার কারণে অবশিষ্ট বিশ্বের পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে।’

এর আগে আন্তর্জাতিক মহলের তরফে অলিম্পিক স্থগিতের জন্য চাপ বাড়ছিল। অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার পর গতকাল যুক্তরাষ্ট্রও আয়োজকদেরকে অলিম্পিক পেছানোর তাগিদ দেয়। সম্মিলিত এ চাপের ফলে অবশেষে অলিম্পিক আয়োজনের সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসেন আয়োজকরা। বিশ্ব জুড়ে করোনা ভাইরাসের প্রকোপে খেলার দুনিয়াতেও এর বাজে প্রভাব পড়েছে। কোপা আমেরিকা ও ইউরো ২০২০ চলতি বছর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। এরকম পরিস্থিতির মধ্যেও এতদিন অলিম্পিক আয়োজনের পক্ষেই মত দিয়ে আসছিল আসরের আয়োজকরা। গেল সপ্তাহেই জাপান সরকারের মুখপাত্র ইয়োশিদে সুগা জানিয়েছিলেন, অলিম্পিক পেছানো তো নয়ই, এমনকি ফাঁকা মাঠেও গেমসটি আয়োজনে সম্মত নয় তারা।

এরপর অ্যাথলিটদের স্বাস্থ্য ঝুঁকির কথা চিন্তা করে অলিম্পিকে খেলোয়াড় না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় কানাডা। এর কিছু পরেই একই কারণে অলিম্পিকে খেলোয়াড় পাঠাতে অপারগতা জানায় অস্ট্রেলিয়ান অলিম্পিক কমিটি।

তার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র অলিম্পিক ও প্যারালিম্পিক কমিটিও (ইউএসওপিসি) আয়োজকদেরকে অলিম্পিক পেছানোর জন্যে চাপ দেয়। সর্বশেষ ব্রিটেনও জানায় চলমান অবস্থায় আসছে গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকে খেলোয়াড় পাঠাবে না দেশটি।

অলিম্পিক স্থগিতের ঘোষণার কিছু আগেই অবশ্য আইওসির সদস্য ডিক পাউন্ড জানান, গেমস পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যেই নিয়ে নিয়েছে আয়োজকরা। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে যে কোনো সময়ে।