নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা ততোই জমে উঠতে শুরু করেছে। এ আসনে ৫ জন প্রার্থী থাকলেও ভোটযুদ্ধে আওয়ামী লীগ সমর্থিত নৌকা প্রতীকের মহাজোট প্রার্থী কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা ও বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী শহীদুল ইসলাম ভূঁইয়ার মধ্যে লড়াই হবে বলে মনে করছেন এলাকার সচেতন সমাজ।
এ আসনে জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী সোলাইমান আলম শেঠ লাঙ্গল প্রতীক, ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল জব্বার ও সিংহ মার্কা প্রতীকে ইউপিডিএফের প্রার্থী নতুন কুমার চাকমা নির্বাচন করছেন।
জানা গেছে, বিগত তিন বছর ধরে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে যে বিভক্তি ও বৈরিতা ছিল তা এখন নেই। সব শ্রেণি-পেশার মানুষ এখন নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে একাট্টা। দলীয় নেতাকর্মীদের পথসভা, জনসভা, উঠান বৈঠকের জোয়ারে ভাসছে পাহাড়ী জনপদ খাগড়াছড়ি। নৌকা প্রতীকের সমর্থনে নেতাকর্মীরা হাট-বাজার, গ্রাম, মহল্লা, পাহাড়ী ছড়া-ঝিরি পেরিয়ে ভোটারদের ঘরে ঘরে ছুটে চলেছে প্রতিনিয়ত। ইমেজ রক্ষায় যেন ঘুম নেই দলীয় নেতাকর্মীদের। সবকিছু মিলিয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পক্ষের কর্মী সমর্থকদের তৎপরতা নির্বাচন পরিচালনা সেলের সার্বিক কৌশল প্রতিপক্ষ প্রার্থীদের প্রচারণাকে একেবারে ম্লান করে দিয়েছে। গত তিন দিনে সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি, গুইমারা ও রামগড়ে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে ব্যাপক প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন।
আরো পড়ুন: রাজশাহীর ৬৯৫ ভোটকেন্দ্রের ৩৮৯টি ঝুঁকিপূর্ণ
বিভিন্ন পথসভা ও উঠান বৈঠকে কুজেন্দ্র্র লাল ত্রিপুরা বিগত দশ বছরে দেশের অচিন্তনীয় উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরেন এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির মাধ্যমে পাহাড়ে বহুমাত্রিক উন্নয়ন ও শান্তি-সম্প্রীতির পরিবেশ প্রতিষ্ঠার কথা তুলে ধরে তার বক্তব্যে বলছেন, নৌকা জিতলে দেশ ও দেশের জনগণ জিতবে। আর উন্নয়নের জন্য নৌকার কোনো বিকল্প নেই। আওয়ামী লীগের প্রতি দেশের উন্নয়ন ও শান্তিকামী জনগণের ভালবাসা দেখে নৌকার বিজয় রুখতে স্বাধীনতা বিরোধী চক্ররা উঠেপড়ে লেগেছে। তারা আবারো ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। যতই ষড়যন্ত্র হোক না কেন নৌকার বিজয় ঠেকাবার সাধ্য তাদের নেই।
অপরদিকে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় গত দশ দিন ধরে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী শহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া ফরহাদও তার বিজয় নিশ্চিত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। তার পক্ষে দলীয় নেতাকর্মী নিয়ে ব্যাপক নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা, পথসভা, জনসংযোগ ও উঠান বৈঠক করেছেন তারই আপন চাচা জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া। গত তিন দিনের ব্যবধানে দীঘিনালা, রামগড়, খাগড়াছড়ি সদর, গুইমারা উপজেলার বড়পিলাক ও হাফছড়িসহ বেশ কয়েকটি স্থানে পথসভা ও গণসংযোগ করেন তিনি। আগামী নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীকে দলমত নির্বিশেষে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করার মাধ্যমে জেল থেকে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার অনুরোধ জানাচ্ছেন।
ইত্তেফাক/বিএএফ