রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর বাসিন্দা শিউলী (ছদ্মনাম) বললেন, 'জাতীয় পরিচয়পত্রে আমাদের গ্রামের নাম লেখা হয়েছে পতিতালয়। যে কারণে প্রতিক্ষেত্রে লাঞ্ছনা ও অধিকারবঞ্চিত হতে হচ্ছে আমাদের। জাতীয় পরিচয়পত্রে এখানকার বাসিন্দার গ্রামের নাম পতিতালয়। এমনকি নির্বাচনের সময় আমাদের আলাদাভাবে চিহ্নিত করার জন্য আমাদের জন্য আলাদা লাইন করা হয়! আলাদাভাবে ভোট নেওয়া হয়!'
যৌনকর্মী মায়া বলেন, 'আমাদের সন্তানদের স্কুলে ভর্তি, চিকিৎসা সেবা নিতে গেলে বা কেউ মারা যাওয়ার পর মৃত্যুসনদ নিতে গেলে পরিচয়পত্র প্রয়োজন। কিন্তু পরিচয়পত্রে পতিতালয় লেখা থাকায় সমাজের মানুষেরা আমাদের ছোট করে দেখে।'
এই পল্লীর বাসিন্দা মমতাজ আক্তার, শিল্পি আক্তার, পারভীন আক্তার, শাহনাজ আক্তারসহ অনেকে জানান, তারা জন্মসূত্রে বেশীরভাগ এখানকার বাসিন্দা নন। বাড়িতে পরিচয় গোপন রেখে বাইরে ভাল চাকরি করেন বলে বাড়ির লোকেদের বলেন।
তারা জানান, বাবা বা স্বামীর সম্পত্তি লাভ, জমি বেচাকেনা, সন্তানকে ভালো স্কুলে ভর্তি করা, বিকল্প পেশায় চলে যাওয়া প্রভৃতি ক্ষেত্রে তাদের গ্রামের এই 'পতিতালয়' নাম কঠিন সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা চলে এলেও এর কোনো প্রতিকার তারা পাচ্ছেন না।
অন্য সব এলাকার মতো দেশের সবচেয়ে বড় এই যৌনপল্লীতেও লেগেছে ভোটের হাওয়া। এবার ভোট দিবেন অন্তত দুই হাজার ভোটার। এই নারীদের এবার একটাই চাওয়া জাতীয় পরিচয়পত্র থেকে মুছে দেওয়া হোক গ্রামের বিতর্কিত নামটি।
যৌনকর্মী ও তাদের সন্তানদের নিয়ে কাজ করা সংগঠন 'মুক্তি মহিলা সমিতি'র নির্বাহী পরিচালক মর্জিনা বেগম বলেন, 'জাতীয় পরিচয়পত্রে এমন ঠিকানা দিয়ে তাদের ছোট করা হয়েছে। কেউ এই পেশায় ইচ্ছা করে আসেননি। তারাও সমাজের আট-দশ জনের মতো মানুষ। একজন উন্নয়ন কর্মী হিসেবে আমি দীর্ঘদিন ধরে তাদের নিয়ে কাজ করছি। আমি বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখার জন্য সংশ্লিষ্টদের কাছে দাবি জানাই।'
আরও পড়ুনঃ নির্বাচনী জনসচেতনতার উদ্দেশ্যে শরণখোলায় সুজনের মানববন্ধন
এ ব্যাপারে রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক মোঃ শওকত আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, 'বিষয়টি নিয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান আমাকে ফোন করেছিলেন। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। ওই এলাকাটি গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নে অবস্থিত। তাই গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সম্মানের সঙ্গে তাদের ভোট গ্রহন করা হয়। আর পরিচয়পত্র প্রস্তুুত করেছে নির্বাচন অফিস। নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়ে গ্রামের নাম সংশোধন করা হবে।'
ইত্তেফাক/অনি/নূহু