চাঁদপুরে এতিমখানার চাল লুটের ঘটনায় আরও টাকা ফেরত পেলেন ভুক্তভোগীরা

আপডেট : ১৭ জুলাই ২০২৬, ২১:৫৮

চাঁদপুরের মতলব ‍উত্তর উপজেলায় এতিমের জন্য বরাদ্দ করা চাল লুটের ঘটনায় ভুক্তভোগী এতিমখানাগুলোতে আরও টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) এতিমখানা সংশ্লিষ্টরা এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। মনির হোসেন মোল্লা নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি ক্ষমা চেয়ে ভুক্তভোগী মাদ্রাসাগুলোতে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা ফেরত দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

টাকা ফেরত দেওয়া সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি ভিডিও এই প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার ‘চাঁদপুরে এতিমের জন্য বরাদ্দ ৪৬ টন চালের বেশিরভাগই গায়েব’ শিরোনামে ইত্তেফাক অনলাইনে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

আরও টাকা ফেরত দেওয়ার পর বেশ কয়েকটি এতিমখানা কর্তৃপক্ষের সাংবাদিকদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

কয়েকটি এতিমখানায় শুক্রবার সরেজমিনে যাওয়ার পর কর্তৃপক্ষের লোকজন জানান, ৪৬টি এতিমখানায় সবাইকে এক টন চাল দেওয়ার কথা থাকলেও কাউকে ১৫ হাজার, আবার কাউকে ১৭ হাজার টাকা ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কোনো কোনো এতিমখানায় ১ হাজার কেজি (১ টন) চালের বিপরীতে দিয়েছে ৫০০ কেজি কোথাও দেওয়া হয় ৬০০ কেজি চাল। পরে এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন ও ঘটনায় জড়িতরা।

সর্বশেষ শুক্রবার ভুক্তভোগী এতিমখানাগুলোতে আরও ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা করে ফেরত দেওয়ার কথা জানান সংশ্লিষ্টরা।

উপজেলার সাড়ে পাঁচানী হোসাইনীয়া এতিমখানার সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি নুরুল আমীন মাস্টার বলেন, আমি ক্ষমতাসীন দলের বড় পদে ছিলাম। তারপরও ঘটনায় যারা জড়িত তাদের এতিমদের দোহায় দিয়েও কোনো সুফল পাই নি। কিন্তু সাংবাদিকদের হস্তক্ষেপে দ্রুততম সময়ের মধ্যে জড়িতরা এতিমখানায় গিয়ে আরও ১০-১২ হাজার টাকা পৌঁছে দিয়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানাই। 

কলাকান্দা ইউনিয়নের সাতানী নেদায়ে ইসলাম আশেকী মানঞ্জুর হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি বাহাউদ্দিন জানান, আমার এতিমখানার এতিমদের জন্য এই মাসের প্রথম সপ্তাহে সরকারি বরাদ্দ ১ টন চালের পরিবর্তে আমাকে দিয়েছিল ১৫ হাজার টাকা। আর কিছু দিবে না জানালেও শুক্রবার আমাকে আরও ১৫ হাজার টাকা দিয়েছে। যাদের হস্তক্ষেপে আরও ১৫ হাজার টাকা পেলাম তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞতা। এই টাকায় এতিমদের অনেক উপকার হবে।

তবে এ বিষয়ে টাকা ফেরত দিতে যাওয়া ব্যক্তি মনির হোসেন মোল্লার সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে ‘তিনি কিছুই জানেন না’ বলে দাবি করেছেন।

একইভাবে টাকা ফেরতের বিষয়ে ‘কিছুই জানা নেই’ বলে দাবি করেছেন এতিমখানায় চাল বিতরণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও)। সরকারি প্রকল্পে চাল বিতরণে বাইরের ব্যক্তি জড়িত থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে বক্তব্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি।

এতিমখানায় চাল বিতরণ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি করা হচ্ছে তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার ‘চাঁদপুরে এতিমের জন্য বরাদ্দ ৪৬ টন চালের বেশিরভাগই গায়েব’ শিরোনামে ইত্তেফাক অনলাইন ভার্সনে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এতে বলা হয়- ‘নিয়ম অনুযায়ী, মাদ্রাসাগুলোর জন্য বরাদ্দ করা চাল উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় থেকে ওই দপ্তরের কর্মকর্তার উপস্থিতিতে এবং এতিমখানা মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সাক্ষরের মাধ্যমে গোডাউন থেকে চাল সংগ্রহের কথা রয়েছে। তবে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ ‘প্রভাবশালী একটি মহল’ পিআইও অফিসের প্রকল্পের খাতা নিয়ে এতিমখানা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আগেভাগেই সাক্ষর আদায় করে নেয়। পরে তাদের বরাদ্দের অর্ধেকের কম চাল বিতরণ করা হয়, কোথাও কোথাও ধরিয়ে দেওয়া হয় নামমাত্র টাকা।’

ইত্তেফাক/এপি