করোনা ভাইরাসের প্রভাবে বিশ্বব্যাপী চাহিদা কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছে দেশের রপ্তানি খাত। ৮৪ শতাংশ রপ্তানি আয় অর্জনকারী তৈরি পোশাক খাতে সংকট বাড়তে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। বিশেষ করে অনেক বিদেশি ক্রেতা প্রতিষ্ঠান ক্রয়াদেশ বাতিল করায় তারল্য সংকটে পড়তে যাচ্ছে এই খাত। এ পরিস্থিতিতে অর্থ সংকুলানের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি ঋণ পরিশোধে বিশেষ ছাড় দেওয়ার জন্য সরকারকে অনুরোধ জানিয়েছে এ খাতের উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএ। অবশ্য গতকাল জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তৈরি পোশাকসহ রপ্তানি খাতের প্রণোদনার জন্য নতুন করে ৫ হাজার কোটি টাকা তহবিল গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর এ ঘোষণায় সন্তোষ প্রকাশ করে বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক বলেন, প্রতি মাসে গার্মেন্টস খাত বেতন-ভাতা বাবদ ৪ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করে। প্রধানমন্ত্রীর এ ঘোষণা আমাদের কিছুটা ভারমুক্ত করেছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউসের কাছে সম্প্রতি পাঠানো ঐ চিঠিতে কারখানার ছয় মাসের বেতন-ভাতা, গ্যাস-বিদ্যুত্সহ পরিষেবার বিল পরিশোধে সুদমুক্ত ঋণ মার্কিন ডলার বা সমপরিমাণ স্থানীয় মুদ্রায় প্রদান করার অনুরোধ করেছে বিজিএমইএ। অনুরোধ করেছে, এই ঋণের অর্থ প্রথম ছয় মাসে প্রদান না করে পরবর্তী ৩০ মাসে সমান কিস্তিতে পরিশোধের ব্যবস্থা করার, যে সুবিধা দেওয়ার জন্য একটি পুনঃ অর্থায়ন স্কিমের আওতায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে প্রদান করবে।
প্রণোদনা দাবির ৯০ শতাংশ পর্যন্ত পিআরসির বিপরীতে সরাসরি ব্যাংক থেকে প্রদান করা, বকেয়া প্রণোদনার অর্থ আগামী মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করা, মেয়াদি ঋণের সুদ আগামী ছয় মাসের জন্য মওকুফ ও ঋণ শ্রেণিবিন্যাসের সময় ১৮০ দিন পর্যন্ত বৃদ্ধি করা, ব্যাক টু ব্যাক ঋণপত্র সময়মতো পরিশোধ না করা হলে ফোর্স ঋণ সৃষ্টি না করা, রপ্তানি আয় প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত সব বিধিবিধান ছয় মাসের জন্য স্থগিত করাসহ আরো কিছু দাবি উল্লেখ করা হয়েছে।