ভিয়েতনামে বাংলাদেশ দূতাবাসে স্বাধীনতা দিবস পালিত

ভিয়েতনামের হ্যানয়স্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা দিবস পালিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬মার্চ) এ দিবস পালিত হয়। 

এ উপলক্ষে রাষ্ট্রদূত মিজ সামিনা নাজ সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। এসময় নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে স্বল্প সংখ্যক দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীর উপস্থিতিতে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদ ও জাতীয় চার নেতার আত্মার মাগফেরাত এবং দেশের সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।  

অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্র মন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কর্তৃক প্রদত্ত বাণী পাঠ করে শোনানো হয়। রাষ্ট্রদূত দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে বঙ্গবন্ধু এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা শীর্ষক এক আলোচনা করেন। 

রাষ্ট্রদূত তার বক্তব্যে স্বাধীনতার মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অপরিসীম অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। ৩০ লক্ষ শহীদদের আত্মত্যাগ এবং ২ লক্ষাধিক নারী নির্যাতন ও ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত মুক্তিযুদ্ধের কথা তিনি বিনম্ভ্র চিত্তে ও শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। 

বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে গৃহীত পদক্ষেপ এবং অর্জনের ওপর রাষ্ট্রদূত তার বক্তব্যে আলোকপাত করেন। 

আরো পড়ুন: করোনায় যুক্তরাষ্ট্রে মৃতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়ালো

তিনি বলেন, আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে রোল মডেল। উল্লেখ্য যে ১৭ই মার্চ ২০২০ হতে ১৭ই মার্চ ২০২১ বাংলাদেশ সরকার মুজিববর্ষ ঘোষণা করেছে; যেটি জাতিসংঘ কর্তৃক স্বীকৃত হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও নীতিকে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্যে ভিয়েতনামে বাংলাদেশ দূতাবাস বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে। এর মধ্যে ভিয়েতনাম সরকারকে বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু ওপর ম্যুরাল স্থাপন, ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণের ভিয়েতনামীজ ভাষায় অনুবাদ এবং ভিয়েতনামে বঙ্গবন্ধু স্বারক ডাক টিকেট প্রকাশ করতে অনুরোধ করা হয়েছে।

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করে রাষ্ট্রদূত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক গৃহীত রূপকল্প  ২০২১ ও ২০৪১ এবং ডেল্টা প্লান-২১০০ অঙ্গীকার পূরণের লক্ষ্যে এবং ক্ষুধা-দারিদ্রমুক্ত, সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ ও জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়তে সকল প্রবাসী বাংলাদেশিদের সাথে কাজ করার আহ্বান জানান। 

দূতাবাসে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস আলোচনা পর্বে বর্তমান বিশ্বে যে কোভিড-১৯ স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে প্রতিনিয়ত জীবনহানি হচ্ছে এবং বাংলাদেশও এই ঝুঁকিতে আছে, সে জন্য ১ মিনিট নীরবতা পালন করে সমবেদনা ও গভীর দু:খ প্রকাশ করা হয়। 

বাংলাদেশের জনগণসহ সারা বিশ্বে এই রোগ থেকে মুক্তির জন্য প্রার্থনা এবং বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশনা মেনে নিরাপদ থাকার জন্য সকল প্রবাসী বাংলাদেশিকে আহ্বান জানানো হয়। 

সবশেষে বাংলাদেশের উন্নয়ন ভিত্তিক একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হয় । 

ইত্তেফাক/এএএম