পোশাক কারখানাও বন্ধ হচ্ছে

করোনা পরিস্থিতি দিনে দিনে আরো কঠিন হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে দেশের সবচেয়ে বড়ো শ্রমঘন খাত গার্মেন্টস কারখানা আপাতত বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ গতকাল তার সদস্যদের কারখানা বন্ধ রাখার অনুরোধ জানিয়ে নোটিশ পাঠিয়েছে। এর আগের দিন আরেক সংগঠন বিকেএমইএও একইভাবে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে। উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, তারা আপাতত বন্ধের দিকেই যাচ্ছেন। তবে কিছু কারখানার হাতে কাজ থাকায়, তারা এখনই বন্ধের দিকে যাবে কি না, তা নিয়ে দ্বিধা রয়েছে।

এদিকে কারখানা কত দিনের জন্য বন্ধ করা হবে কিংবা কী প্রক্রিয়ায় শ্রমিকরা তাদের বেতন-ভাতা পাবেন—তা নিয়ে স্পষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা সংগঠনগুলোর কাছ থেকে পাওয়া যায়নি। উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, শিগিগরই করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে শ্রম আইনের ১৬ ধারা অনুযায়ী বন্ধের সিদ্ধান্তের দিকে যেতে পারেন তারা। শ্রম আইনের ১৬ ধারা অনুযায়ী, যে কোনো                  মহামারি পরিস্থিতিতে কারখানা বন্ধ রাখা যায়। সেক্ষেত্রে বন্ধ থাকার সময়টিতে শ্রমিকদের মূল বেতনের অর্ধেক ও বাড়িভাড়া ভাতার অর্থ দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন বিজিএমইএর সহসভাপতি আরশাদ জামাল দিপু। তবে ইত্তেফাককে তিনি বলেন, যে কোনো মূল্যে চলতি মাসের বেতন দিতে হবে। যত সমস্যাই থাকুক, এটি নিয়ে কেউ অবহেলা করবে বলে মনে হয় না।

বিকেএমইএর সিনিয়র সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম ইত্তেফাককে বলেন, বন্ধ তো করতেই হবে। যেসব কারখানার হাতে কাজ রয়েছে, তারা হয়তো আরো কিছুদিন চালু রাখবে। নিজের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, তার কারখানায় বর্তমানে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের কিছু ক্রেতার কাজ চলছে। অন্যদিকে কাটিংয়ে থাকা ফেব্রিকও এভাবে ফেলে রাখা যাবে না। সে পর্যন্ত তার কারখানাটি চালু রাখতে হবে। তবে তিনি বলেন, যারা এই সময়টিতে চালু রাখবে, শ্রমিকের পূর্ণ নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনেই চালু রাখতে হবে। বিজিএমইএর পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, যেসব কারখানা চালু রাখবে, যথাযথ স্বাস্থ্যব্যবস্থা মেনেই চালু রাখতে হবে। জানা গেছে, ইতিমধ্যে বেশকিছু কারখানা সাময়িক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।