সবসময়ই যেকোনো সঙ্কটে শিল্পীদের পাশে থেকেছেন চিত্রনায়ক-প্রযোজক অনন্ত জলিল। তবে করোনা সঙ্কট নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই একাধিক শিল্পী-কলাকুশলীরা প্রশ্ন তুলছিলেন যে, একেবারেই হঠাত্ বেকার হয়ে যাওয়া টেকনিশিয়ান থেকে শুরু করে শিল্পীদের ভেতরে যারা এমনিতেই কিছু অস্বচ্ছল রয়েছেন তারা কিভাবে এই সঙ্কট মোকাবিলা করবেন। কারণ দীর্ঘদিনের এই অচল হয়ে থাকা ইন্ডাস্ট্রিতে তারকা শিল্পীদের খুব একটা অসুবিধা না হলেও সঙ্কটে পড়বেন যারা খানিকটা অস্বচ্ছল। সেই ভাবনা থেকেই চিত্রনায়ক-প্রযোজক অনন্ত জলিল নিজ উদ্যোগে শিল্পীদের পাশে দাঁড়ানোর কথা বলেন। অনন্ত জলিল ইত্তেফাককে বলেন, ‘এটা তো আর নতুন না আমার জন্য। সবসময়ই শিল্পীদের খোঁজখবর নিয়েছি। পাশে থেকেছি। তবে এই মহামারি সঙ্কটটা আমাদের সারাবিশ্বের কাছে একেবারেই অভিনব। তাই এই সঙ্কটে আমরা সকলেই থমকে আছি। সবাই কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত। জানি না কীভাবে মোকাবিলা করবে এই বিশ্ব। তবে আমরা আল্লাহ তায়ালার প্রতি আস্থা রেখেই বলি, আমরা সঙ্কট পার করতে পারবো। সেক্ষেত্রে আমি বলবো আমরা যে যার অবস্থানে আছি সহমর্মী হই। আমি আমার নিজ ফ্যাক্টরির বাইরে এই শিল্পী পরিবারকেও নিজের পরিবার মনে করি। বিচ্ছিন্নভাবে সবসময় আমি তাদের পাশে থেকেছি। এই সঙ্কটের সময়ে আমি তাই অসচ্ছল শিল্পীদের তালিকা করতে বলি শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর ও সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খানকে। তারা আমাকে তালিকা দেন। সেই তালিকা অনুযায়ী নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের একটি প্যাকেট আমরা পৌঁছে দিচ্ছি। এক্ষেত্রে আমি আমার অফিস থেকে গাড়িসহ স্টাফরা ঠিকানা অনুযায়ী পৌঁছে দেবে।’ শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর বলেন, ‘বিপদেই মানুষের পরিচয়। আমরা আমাদের পরিবারের আগে খেয়াল করি। এই চলচ্চিত্র শিল্পীরা আমার পরিবারের চেয়েও বেশি। তাই আমি বলবো এই মহাসঙ্কটকালে অনন্ত ভাই যে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন সেটার জন্য সত্যিই কৃতজ্ঞতা তার প্রতি। আমরা শিল্পীরা এভাবেই নিজেদের যেকোনো বিপদ বা প্রতিকূলতাকে মোকাবিলা করবো।’ শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান বলেন, ‘এটাই আমাদের শিল্পী সমিতি। আমরা বিপদের সময়েই নিজেদের পরিচয়টা তুলে ধরি। গত কয়েকদিন ধরেই আমরা সকলে মিলে এই সঙ্কট সমাধানে দিনরাত কাজ করছি। আল্লাহর রহমতে আমরাসহ গোটা দেশ এই মহামারি সঙ্কট থেকে রক্ষা পাবো।’
উল্লেখ্য, এরই ভেতরে অনন্ত জলিল তার নিজস্ব ফেরিফাইড ফেসবুক পেজে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে আহ্বান জানিয়েছেন যে, শিল্পীদের ভেতরে আরও যারা সঙ্কটে রয়েছেন তারা যেন যোগাযোগ করেন।