করোনা ভাইরাসের ধাক্কায় বিপাকে আইসিসি

টি-২০ বিশ্বকাপ কি পিছিয়ে যাচ্ছে?

করোনা ভাইরাসের মহামারি রূপ স্তব্ধ করে দিয়েছে               গোটা বিশ্বকে। কল্পনাতীত এই বিপর্যয়ে বিপাকে             পড়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। চলতি বছরে আইসিসির বৈশ্বিক টুর্নামেন্টগুলো অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ইতিমধ্যে টি-২০ বিশ্বকাপের বাছাই পর্ব স্থগিত করেছে সংস্থাটি। তাতেই স্পষ্ট অক্টোবরে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে যাচ্ছে।

সঙ্গে থাকছে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ, নতুন ওয়ানডে লিগ। শেষ টুর্নামেন্টটি টান দিচ্ছে আরো বড়ো পরিসরকে। ওয়ানডে লিগ এই মে মাসেই শুরু হওয়ার কথা। এটি হচ্ছে ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে নাম লেখানোর সিঁড়ি।

ক্রিকেটের জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ক্রিকইনফো লিখেছে, তাদের জানা মতে সম্ভাব্য বিকল্প পরিকল্পনা তৈরিতে কাজ করছে আইসিসি। এসব পরিকল্পনা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

 

টি-২০ বিশ্বকাপ কি হবে?

করোনার দুর্ভাবনার মাঝেও এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্ট আয়োজনে প্রস্তুত অস্ট্রেলিয়া। এই বছর টি-২০ বিশ্বকাপ আয়োজন করা না গেলে বাজে পরিস্থিতি তৈরি হবে মনে করছে আইসিসি। সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য সমাধান হিসেবে টি-২০ বিশ্বকাপ এক বছর পিছিয়ে দেওয়ার চিন্তা করা হচ্ছে। যদিও ২০২১ সালে ভারতেও আরেকটি টি-২০ বিশ্বকাপের আসর চূড়ান্ত করা আছে।

এক্ষেত্রে আইসিসির সামনে সুযোগ হিসেবে আছে ২০২২ সাল। ঐ বছর আইসিসির কোনো বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট নেই। ফলে অস্ট্রেলিয়ার আসরটি এক বছর পিছিয়ে ২০২১ ও ভারতেরটি ২০২২ সালে করা যেতে পারে। তাতে প্রত্যেক বছরই আইসিসির টুর্নামেন্ট থাকছে। অবশ্য এই সিদ্ধান্ত নিতে অস্ট্রেলিয়া, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে আইসিসিকে।

 

কি হবে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের?

টেস্ট চ্যাম্পিয়নের ম্যাচগুলোও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে করোনায়। আগামী বছর মার্চে প্রথম চক্র শেষ হয়ে জুনে লর্ডসে ফাইনাল হওয়ার কথা। কিন্তু একের পর এক সিরিজ স্থগিত হওয়ায় প্রতি দলের ছয়টি সিরিজ না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। সেক্ষেত্রে দলগুলোকে সাম্যাবস্থায় আনতে পিছিয়ে দেওয়া হতে পারে ফাইনাল। তাতে প্রভাব পড়বে এফটিপিতে। কারণ টেস্ট চ্যাম্পিয়নের দ্বিতীয় চক্র ঠিক করা আছে ২০২১-২৩। সবমিলিয়ে এফটিপিতে বড়ো রদবদল আনতে হবে।

 

ওয়ানডে লিগ কি বাদ যাচ্ছে?

ওয়ানডে সুপার লিগ শুরু হওয়ার কথা চলতি বছর ১ মে। ২০২২ সালের ৩১ মার্চ যা শেষ হবে এবং এটিই ২০২৩ বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়ার পথ। ১২টি টেস্ট দলের সঙ্গে নেদারল্যান্ডস মিলে ১৩টি দল ওয়ানডে লিগে অংশ নিবে। দুই বছরের চক্রে হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে ভিত্তিতে প্রতিটি দল আটটি সিরিজ খেলবে। ১৩ দল থেকে আটটি সরাসরি বিশ্বকাপে যাবে। ১০ দলের বিশ্বকাপের বাকি দুইটি আসবে বাছাই পর্ব থেকে। করোনার কারণে এখন পুনরায় ভাবতে হচ্ছে আইসিসিকে। হয় ওয়ানডে লিগ বাদ অথবা সিরিজের পরিমাণ কমিয়ে আনতেই হবে সংস্থাটিকে।

আগামী ৮-১০ মে দুবাইয়ে রয়েছে আইসিসির সভা। করোনার কারণে যেটি ভিডিও কনফারেন্সে রূপ নিতে পারে। এই সভার এজেন্ডা হিসেবে ওপরের বিষয়গুলো ঠিক হয়েই আছে। আইসিসির ঐ সভা থেকেই নতুন পরিকল্পনা ও টুর্নামেন্টগুলোর ভবিষ্যত্ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।