যমুনার ভাঙনরোধে বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ সংরক্ষণ ও টেকসইয়ের জন্য লাগানো গাছপালা প্রতিদিন লোপাট হচ্ছে। করোনা ভাইরাস সামাল দিতে স্থানীয় প্রশাসন যখন ব্যস্ত তখন দুর্বৃত্তরা নির্বিবাদে এ দুষ্কর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। জানা যায়, সড়ক ও জনপথ বিভাগ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর-তারাকান্দি যমুনা বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধকে আঞ্চলিক মহাসড়কে পরিণত করার পর উভয় পাশে বনজ গাছপালা লাগায়। হেমনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রওশন খান আইয়ুব অভিযোগ করেন, স্থানীয় এক দল প্রভাবশালী লোক পানি উন্নয়ন বোর্ডের অসাধু কর্মকর্তা ও ঠিকাদারের যোগসাজশে বাঁধের গাছ কেটে পাচার করছে।
তিনি আরো জানান, বাঁধ ভেঙে যাবার আশঙ্কায় ৮৮ সালের বন্যায় এসব প্রাচীন গাছপালা সওজকে এলাকাবাসী কাটতে দেয়নি। অথচ সেসব গাছপালা এখন কেটে শিকড়বাখড় উপড়ে ফেলায় বাঁধ ন্যাড়া হয়ে যাচ্ছে। সামনের বর্ষায় এ ন্যাড়া বাঁধ নদীগর্ভে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
শাখারিয়া গ্রামের স্কুলশিক্ষক নজরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, বাঁধের দুপাশের গাছগাছালি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধটির রক্ষাকবচ। অথচ এসব গাছপালা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের ইন্ধনে সাবাড় হচ্ছে। এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী সোহেল মাহমুদ জানান, এ সড়ক উন্নয়নে দুপাশের বৃক্ষাদি কাটার জন্য মার্কিং হচ্ছে। সড়কের গোপালপুর উপজেলার নলিন অংশে পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধের বিপজ্জনক অংশ মেরামতে মার্কিং করা কিছু গাছ নিজেরা কাটার জন্য সওজের অনুমতি চেয়েছে। কিন্তু অনুমতি মেলার আগেই শুরু হয়েছে বৃক্ষনিধন।
সওজের বৃক্ষপালন বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আনোয়ারুল ইসলাম জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডকে ঐ সব গাছাপালা কাটার অনুমতি সওজ দেয়নি। অনুমতি পাওয়ার আগেই এ ধরনের গাছপালা কর্তন বেআইনি। গত বৃহস্পতিবার সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, সওজের মার্কিং করা কয়েকটি বিশাল গাছ কেটে পাচার করা হয়েছে। আরো কয়েকটি গাছের ডালপালা সম্পূর্ণরূপে ছেঁটে ফেলা হয়েছে।
স্থানীয় দোকানদার আব্দুস সামাদ জানান, সরকার দলীয় নেতাকর্মীরা এসব গাছ পাচার করার ধান্ধায় রয়েছেন। বাঁধটি গাছপালাশূন্য হলে আগামী বর্ষায় সহজেই ভেঙে এলাকা লণ্ডভণ্ড হবে বলে তার আশঙ্কা। পানি উন্নয়ন বোর্ড টাঙ্গাইলের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম জানান, ঐ স্থানে নদী তীর সংরক্ষণের কাজ হবে। এজন্য সওজের অতিরিক্ত প্রকৌশলীর নিকট কিছু গাছ কাটার অনুমতি চাওয়া হয়েছে। কিন্তু অনুমতি পাবার আগেই করোনা ভাইরাসের অজুহাতে ঠিকাদার হয়তো কয়েকটি গাছ কেটে ফেলেছে। এটি খুব দুঃখজনক বলে জানান তিনি। গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিকাশ বিশ্বাস জানান, বেআইনিভাবে গাছপালা কেটে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধকে যারা ঝুঁকিপূর্ণ করবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।