করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে মোংলা বন্দর থেকে ভারতগামী লাইটার জাহাজ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশ ভারত আন্তর্জাতিক নৌপ্রটোকলভুক্ত সুন্দরবনের অভ্যন্তর দিয়ে চলাচলকারী মোংলা-আংটিহারা-ঘষিয়াখালী অভ্যন্তরীণ চ্যানেল দিয়ে ভারতগামী শত শত লাইটার জাহাজ (কার্গো, কোস্টার) চলাচল বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন বিপুলসংখ্যক নৌযান কর্মচারী। মোংলা বন্দরেই এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০০ ভারতগামী লাইটার জাহাজ অবস্থান করছে। এতে অলস সময় পার করছেন নৌযান স্টাফরা।
জানা গেছে, করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে বিআইডব্লিউটিএ এর নির্দেশনা অনুযায়ী গত ২৪ মার্চ থেকে আপাতত ভারতের কলকাতা, বজবজ ও হলদিয়া বন্দরের সঙ্গে পণ্যবাহী লাইটার জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে মোংলা ও চট্টগ্রাম বন্দরসহ দেশের অভ্যন্তরীণ অন্যান্য জায়গায় পণ্যবাহী নৌযান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। এ ছাড়া মোংলা বন্দরে অবস্থানরত সব জাহাজ ও জেটিতে যথারীতি পণ্য ওঠানামাও করছে। বাংলাদেশ লাইটার শ্রমিক ইউনিয়নের মোংলা শাখার সভাপতি মো. ফিরোজ আলম মাস্টার জানান, করোনা ভাইরাসের প্রভাবে বাংলাদেশ ভারত অভ্যন্তরীণ আন্তর্জাতিক রুট দিয়ে লাইটার জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় পণ্য বোঝাই বা খালাসে যাওয়া প্রায় ৫ শতাধিক লাইটার জাহাজ আটকা পড়েছে। মোংলা বন্দর ও আংটিহারায় বিপুলসংখ্যক লাইটার জাহাজ ভারতে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে। অপরদিকে ভারতের অংশে প্রায় দুই শতাধিক লাইটার জাহাজ বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে। ভারতে অবস্থানরত লাইটার জাহাজের স্টাফরা দুর্ভোগে পড়েছেন।
বাংলাদেশ লাইটার শ্রমিক ইউনিয়নের মোংলা শাখার সহসভাপতি মাইনুল হোসেন মিন্টু বলেন, মোংলা বন্দরে অবস্থানরত মাদার ভ্যাসেল থেকে যখন লাইটার শ্রমিকরা পণ্য বোঝাই বা খালাসে যায়, তখন নৌযান স্টাফদের করোনা ভাইরাস রোধে প্রয়োজনীয় মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস, প্রয়োজনীয় চিকিত্সা সরঞ্জাম দেওয়া হচ্ছে না। তিনি আরো বলেন, মোংলা বন্দরে আগত জাহাজগুলোর অধিকাংশই বিদেশি। তাদের সঙ্গে স্টাফদের পণ্য লোড-আনলোডের কারণে সম্পৃক্ত হতে হচ্ছে। এতে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের ঝুঁকি রয়েছে।