কুমিল্লায় পিপিই সংকট

প্রাণিসম্পদ দপ্তর থেকে ৪১৫টি পিপিই সংগ্রহ করল প্রশাসন

কুমিল্লায় করোনা ভাইরাসের চিকিত্সা সরঞ্জাম পার্সোনাল প্রোটেকটিভ ইকুইপমেন্টের (পিপিই) সংকট দেখা দিয়েছে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে সেন্ট্রাল মেডিক্যাল স্টোর ডিপার্টমেন্টে (সিএমএসডি) চাহিদাপত্র প্রেরণ করা হলেও মিলেছে মাত্র এক চতুর্থাংশ। এছাড়া জেলার মাঠ প্রশাসনে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুরক্ষায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পৃথক চাহিদাপত্র প্রেরণ করা হলেও এ পর্যন্ত পিপিই পাওয়া যায়নি। ৫০০ শয্যার কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সংকট না থাকলেও সংকটে পড়েছেন জেলার ১৭টি উপজেলার চিকিত্সকরা। এতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন এসব হাসপাতালের চিকিত্সক, স্বাস্থ্য সহকারী, নার্স এবং ওয়ার্ডবয়রা।

এদিকে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে সরবরাহ না পাওয়ায় জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর থেকে ৪১৫টি পিপিই সংগ্রহ করেছে জেলা প্রশাসন। এ বিষয়ে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. নজরুল ইসলাম জানান, ‘২০০৮ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত বার্ড ফ্লু প্রজেক্টের জন্য এসব পিপিই এ কার্যালয়ে দেওয়া হয়েছিল। ঐ সময়ে অব্যবহূত পিপিইগুলো কার্যালয়ে সংরক্ষণে ছিল। গত ২৩ মার্চ জেলা প্রশাসক মহোদয়ের টেলিফোনে নির্দেশনার প্রেক্ষিতে ৪১৫টি পিপিই, ছয়টি স্প্রে মেশিন ও ৩০ কেজি জীবাণুনাশক (ভিরকন-এস) প্রেরণ করা হয়েছে।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে গত ১২ দিন আগে সিএমএসডি কার্যালয়ে ১ হাজার পিপিই চাহিদা প্রেরণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ২৫০ সেট (সার্জিক্যাল মাস্ক, গাউন, সুকভার, হ্যান্ড গ্লাভস, ক্যাপ, গগজ) পিপিই সরঞ্জামাদি দেওয়া হয়। যা চাহিদার চার ভাগের এক ভাগ। ইতিমধ্যে জেলা সদর হাসপাতালের জন্য ১০০ সেট, জেলার ১৬টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০০ সেট ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের জন্য ৫০ সেট পিপিই সরবরাহ করা হয়েছে। এদিকে জেলা-উপজেলা পর্যায়ের মাঠ প্রশাসনে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যবহারের জন্য ৩৫১ সেট সুরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহের জন্য গত ২১ মার্চ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবরে পত্র প্রেরণ করেন জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর জানান, ‘বিদেশফেরত মানুষ কোয়ারেন্টাইনে আছে কি না তা নিশ্চিত করতে, আতঙ্কের কারণে দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধি ও কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে এবং মানুষকে সচেতন করতে জনসমাগমের স্থানসহ বাজারগুলোতে যেতে হয়। ফলে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আমরা অরক্ষিত হয়ে পড়ি। তাই মাঠ প্রশাসনে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুরক্ষা অতি প্রয়োজন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে না পাওয়ায় জরুরি মুহূর্তে ব্যবহারের জন্য জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে পিপিই সংগ্রহ করা হয়েছে এবং ১৭ জন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ১০ সেট করে সরবরাহ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ে প্রেরিত চাহিদাপত্র অনুযায়ী পিপিই পাওয়া গেলে এখানে সংকট থাকবে না।’

এদিকে সংকটের কথা উল্লেখ করে জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. নিয়াতুজ্জামান জানান, ‘পিপিই সংকটের কারণে চিকিত্সক ও সংশ্লিষ্ট চিকিত্সা সহকারীদের মাঝে তাদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তার বিষয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। চাহিদাপত্রে উল্লেখিত ১ হাজার সেটের মধ্যে ২৫০ সেট এ জেলার জন্য পাওয়া গেছে। আরো সাড়ে ৭০০ সেট পিপিই পাওয়া গেলে কোনো সংকট থাকবে না।’

কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. মুজিবুর রহমান জানান, ‘এখানে পিপিইর কোনো সংকট নেই।’