এখনই সময় মানুষের পাশে থাকিবার

ভাইরাসটি ধাবিত হইতেছে উল্কাবেগে, বিশ্বব্যাপী। বিস্ময়করভাবে অপ্রতিরোধ্য শক্তিতে ভাইরাসটি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের প্রকৃতি ও জলবায়ুর সহিত নিজেকে কত দ্রুতই-না মানাইয়া লইয়াছে, হইয়া উঠিয়াছে মহাপরাক্রমশীল। উহার আক্রমণও হইয়া উঠিয়াছে সাংঘাতিক ও প্রাণঘাতী। করোনা ভাইরাসের কারণে পৃথিবীর বৃহত্ অংশ কার্যত লকডাউন হইয়া পড়িয়াছে। কোনো প্রতিষেধক নাই, লম্বা হইতেছে মৃত্যুর মিছিল। অত্যন্ত ছোঁয়াচে এই ভাইরাস ঠেকাইতে সামাজিক দূরত্ব রচনা এবং আইসোলেশন, তাহার সহিত ব্যক্তিগত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং সচেতনতাই একমাত্র দাওয়াই। বাংলাদেশেও গত ২৪ ঘণ্টায় আরো চার জনের মধ্যে করোনা ভাইরাস শনাক্ত করা হইয়াছে। তাহাদের মধ্যে দুই জন চিকিত্সকও রহিয়াছেন। মোট আক্রান্তের সংখ্যা অর্ধশতকের কাছাকাছি হইলেও প্রকৃত পরিস্থিতি কতখানি ভয়াবহ তাহা এখনো স্পষ্ট নহে। উহা বোঝা যাইবে আরো কিছু দিন পর, যেমনটি বুঝা গিয়াছে ইউরোপ-আমেরিকায়। এই মুহূর্তে আমেরিকায় মৃতের সংখ্যা এগারো শত পার হইয়াছে। আক্রান্তের সংখ্যা ছাপাইয়া গিয়াছে ৮৫ হাজার। বিশ্বব্যাপী করোনায় মৃতের সংখ্যা যখন ২৪ হাজারের কাছাকাছি এবং আক্রান্তের সংখ্যা সোয়া ৫ লক্ষাধিক, তখন পাল্লা দিয়া মৃত্যুর মিছিল চলিতেছে স্পেন ও ইতালিতে। ইহা কোথায় গিয়া থামিবে, পৃথিবীর কেহই বলিতে পারিতেছে না। অতি উন্নত যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীও করোনায় আক্রান্ত। ইতিপূর্বে আক্রান্ত হইয়াছেন ব্রিটিশ যুবরাজ প্রিন্স চার্লস। এমন তালিকায় রহিয়াছে বিশ্বখ্যাত অনেক ব্যক্তি।

এই যখন বিশ্বব্যাপী অবস্থা, তখন আমরাও যুঝিতে চেষ্টা করিতেছি করোনার করাল থাবা হইতে। আক্রান্তের সংখ্যা এখন অবধি অল্প হইলেও আমাদের আরো বেশি করিয়া সোশ্যাল ডিসটেন্সিং নিয়ম মানিয়া চলিতে হইবে এবং তাহা মানিয়াই দাঁড়াইতে হইবে অসহায় মানুষের পাশে। ইহা সত্য, বাংলাদেশ সরকার চেষ্টা করিতেছে অত্যন্ত আন্তরিকতার সহিত। রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) নিয়মিত খোঁজ রাখিতেছে এবং ব্রিফ করিতেছে। সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের এখনই সময় তাহাদের স্ব স্ব দায়িত্ব পালনের। কারণ বর্তমান পরিস্থিতিতে গরিব ও দিন-আনি-দিন-খাই মানুষের জীবন-জীবিকা ও অর্থনৈতিক অবস্থার উপর যেই আঘাত নামিয়া আসিয়াছে, তাহা কম মর্মান্তিক নহে। সুতরাং প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে মহাযুদ্ধকে মোকাবিলা করাটাই এখনকার মহারাজনীতি। সুতরাং এই সময় সাধ্য অনুযায়ী প্রত্যেকেরই উচিত শ্রমজীবী মানুষের পাশে দাঁড়ানো। ইতোমধ্যে কোনো কোনো জনপ্রতিনিধি, যাহারা নিজেদের নির্বাচনি এলাকা লইয়া অধিক উদ্বিগ্ন, তাহারা এলাকার প্রয়োজন অনুযায়ী মাস্ক, পিপিই, হ্যান্ড স্যানিটাইজারসহ বিভিন্ন সামগ্রী বিতরণ করিয়াছেন। কেহ কেহ নিজের এলাকায় হাসপাতালের জন্য অ্যাপ্রোন পাঠাইতেছেন। পরিস্থিতি যেহেতু ক্রমশ খারাপ হইতে পারে, সেই কারণে এই কালবেলায় আতঙ্ক ও গুজব না ছড়াইবার ব্যাপারে সকলকে সচেতন হইতে হইবে। নিজ নিজ এলাকায় মানুষের সমস্যায় পাশে থাকিবার এমন দায়িত্ব একজন জনপ্রতিনিধির জীবনে এইভাবে কখনো আসে নাই। সুতরাং নিজেদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সর্বোচ্চ মাত্রায় কাজে লাগাইতে হইবে। নিশ্চয়ই একসময় পরাস্ত হইবে করোনা ভাইরাস। হাসিয়া উঠিবে এই অপূর্ব সুন্দর ধরণি।