ঢাকা ফাঁকা থাকলেও মফস্বলের চিত্র ভিন্ন

১০ দিনের সরকারি ছুটির আওতায় সারাদেশ। এই ছুটিতে ঢাকা কার্যত ফাঁকা। কিন্তু মফস্বলের চিত্র ভিন্ন। সেখানে সামাজিক দূরত্ব মানা হচ্ছে না। গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও কিছুসংখ্যক মোটরসাইকেল, টেম্পো বা মিনি ট্রাকে লোকজন এক স্থান থেকে অন্য স্থানে চলাচল করছে। হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে সরকারের যে নির্দেশনা, তাও মানছে না অনেকে। করোনা ভাইরাসের হাত থেকে জনগণকে সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন রাখতে দীর্ঘ ১০ দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করে সরকার। এই ছুটি ঘোষণার পেছনে মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল লোকজনকে ঘরে রাখা। কিন্তু ছুটি পেয়ে মঙ্গল ও বুধবার ঢাকা ছেড়েছে লাখ লাখ মানুষ। ফিরেছে গ্রামের বাড়িতে। বাড়িতে ফেরা এসব মানুষ এখন ভিড় করছেন স্থানীয় বাজারে, চায়ের দোকানে। অনেকেই আবার দল বেঁধে নামছেন ফুটবল ও ক্রিকেট খেলতে। ইত্তেফাকের এই প্রতিনিধি ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, চাঁদপুরের বেশ কিছু এলাকা ঘুরে এমন চিত্রই দেখতে পেয়েছেন।

চিকিত্সকরা বলছেন, করোনা ভাইরাসের হাত থেকে মানুষকে রক্ষা করতে ঘরে থাকার লক্ষ্যে সরকার ছুটি ঘোষণা করে। সরকার ঘোষিত এই ছুটির সময়টা ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু মানুষ সরকারের নির্দেশনা উপেক্ষা করে এখনো যত্রতত্র ভিড় করছে। মশগুল আছে আড্ডায়। তারা বলছেন, করোনা ভাইরাস ঠেকানোর মূল পন্থা হচ্ছে মানুষকে বিচ্ছিন্ন রাখা। যাতে একজন আক্রান্ত ব্যক্তি অন্যদের মধ্যে এই ভাইরাসের সংক্রমণ না ঘটায়। কিন্তু যেভাবে লোকজন একজনের সঙ্গে আরেক জন মিশছে তাতে উদ্বিগ্ন হওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই।

ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানা, সিদ্ধিরগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া, কুমিল্লার দাউদকান্দি ও চান্দিনার কিছু অংশ এবং চাঁদপুরসহ প্রায় ১৮০ কিলোমিটার এলাকা ঘুরে দেখা যায়, হাইওয়ের বিভিন্ন মোড়, গ্রামের সংযোগ সড়কে থাকা বিভিন্ন চায়ের দোকান ও কাঁচাবাজারে মানুষ জমাছুে হয়ে আড্ডা দিচ্ছে। আবার অনেকেই স্থানীয় মুদি ও সবজির দোকানে ভিড় করছে। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণে সরকারের যে কর্মসূচি সেটা অনেক মানুষ অনুসরণ করছে না। ইতিমধ্যে আইইডিসিআর বলেছে, করোনা ভাইরাসের সামাজিক সংক্রমণ সীমিত আকারে শুরু হয়েছে। এই সামাজিক সংক্রমণ সীমিত রাখতে মানুষকে বাধ্যতামূলকভাবে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখার বিকল্প নেই।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ইতালিসহ বিভিন্ন সংক্রমিত দেশ থেকে আসা প্রবাসীরাই সবচেয়ে বেশি আইন লঙ্ঘন করছেন। তারা যেন অনেকটা হানিমুন মুডে রয়েছেন। সরকারের নির্দেশনা তারা মানতেই চাইছেন না। তারা দেশে এসে বিভিন্ন জনের সঙ্গে সাক্ষাত্ করছে। বাজারে ঘুরে বেড়াচ্ছে। যদিও প্রশাসনের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে তাদের ১৪ দিন বাধ্যতামূলকভাবে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। অনেকে এই নির্দেশনা না মানায় ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের অর্থদণ্ড দিচ্ছে। এদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ প্রশাসনের লোকজন এসব স্থানে জমাছুে না করার নির্দেশনা দিচ্ছে। ঐ নির্দেশনা মেনে দোকান বন্ধ করে দিচ্ছে। প্রশাসনের লোকজন চলে যাওয়ার পর আবার দোকান খুলছে। এভাবেই চলছে তাদের কার্যক্রম। 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মফস্বলে বাজারে বা চায়ের দোকানে যেভাবে লোকজন ভিড় করছে, তাতে সরকারের ছুটি দেওয়ার উদ্দেশ্য কতটা সফল হচ্ছে আগামী দিনগুলোতে করোনা ভাইরাসে মানুষের আক্রান্তের হার দেখে সেটা বোঝা যাবে।