করোনা ভাইরাসের কারণে দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে শ্রমজীবী, গরিব ও দুঃখী মানুষের পাশে সাধ্য অনুযায়ী সবাইকে দাঁড়াতে আহ্বান জানিয়েছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন চৌদ্দদলীয় জোট। গতকাল শুক্রবার ১৪ দলের পক্ষ থেকে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে এ আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী সরকার যথাসাধ্য চেষ্টা করছে। কিন্তু সরকারের একার পক্ষে সবকিছু করা সম্ভব নয়। তাই আসুন সবাই দৈনিক উপার্জনের ওপর নির্ভরশীল দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াই।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, আসুন সবাই মানবতার এই সেবায় ঝাঁপিয়ে পড়ি। এখন রাজনীতি কিংবা পারস্পরিক দোষারোপের সময় নয়। প্রাণঘাতী করোনা মোকাবিলা করাই এখন মহারাজনীতি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি জাতীয় ঐক্যের লক্ষ্যে উদারতার মহত্ দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারেন, তাহলে আমরা কেন সব ধর্ম-বর্ণ-পেশার মানুষ একসঙ্গে কাজ করতে পারব না?
১৪ দলের যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের সমন্বয়ক ও খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ নাসিম এমপি, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি, জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু এমপি, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, জাতীয় পার্টির (জেপি) সাধারণ সম্পাদক শেখ শহীদুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রম, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম এমপি, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী এমপি, বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেন, গণআজাদী লীগের সভাপতি এস কে শিকদার, ন্যাপের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান ও বাসদের রেজাউর রশীদ খান।
বিবৃতিতে বলা হয়, যাদের আর্থিক সংগতি আছে, তারা সাময়িকভাবে দুর্যোগ কাটিয়ে উঠতে পারছে এবং পারবে। কিন্তু যারা শ্রমজীবী মানুষ, যাদের দিনের আয়ের ওপর নিজ পরিবারের খাবার জোগাড় করতে হয়, তাদের সামনে এখন খুবই দুঃসময়। আমরা যারা রাজনৈতিক কর্মী, তারা যদি নিজস্ব খরচে এলাকাভিত্তিক কয়েক বেলা বা কয়েক দিনের জন্য চাল, ডাল, তেল, লবণসহ নিত্য খাবার সরবরাহ করতে পারি, তাহলে এসব শ্রমজীবী, গরিব-দুঃখী মানুষের পেটে খাবার যাবে।