নতুন আক্রান্ত :০৪
মোট আক্রান্ত :৪৮
নতুন মৃত্যু :০
মোট মৃত্যু :০৫
সুস্থ :১১
সূত্র :আইইডিসিআর
বাংলাদেশে নতুন করে আরো চারজনের মধ্যে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে; যাদের দুজন চিকিত্সক। অজ্ঞানকারী (এনেসথেসিওলজিস্ট) এই দুই চিকিত্সক দুটি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিত্সা সেবা প্রদানকালে আক্রান্ত হন। এসময় তারা আরো বহু মানুষকে সংক্রমিত করেছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাদের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পেছনে কার্যকর সুরক্ষার অভাবকে দায়ী করছেন চিকিত্সকরা। তারা বলেন, তাহলে কী ওই দুই চিকিত্সকের সুরক্ষা সামগ্রী নিম্নমানের ছিল? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, শুধু ডাক্তার নয়, নার্সসহ সব স্বাস্থ্যকর্মীর জন্য পার্সোনাল প্রটেকটিভ ইকুইপম্যান্ট (পিপিই) বাধ্যতামূলক। প্রসঙ্গত, এ নিয়ে দেশে চারজন চিকিত্সক, তিনজন নার্স ও একজন স্বাস্থ্যকর্মী করোনায় আক্রান্ত হলেন।
দেশে বিভাগ, জেলা, উপজেলা পর্যায়ে পিপিই সংকট রয়েছে। রাজধানীর হাসপাতালেও চাহিদার তুলনায় এগুলো কম। পিপিই সংকটে চিকিত্সক, নার্সসহ স্বাস্থ্য সেবা কর্মীদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এমন অবস্থার মধ্যে আরো দুজন চিকিত্সক করোনায় আক্রান্ত হলেন। এ কারণে তাদের মধ্যে আতঙ্ক আরো বেড়েছে। অনেক ডাক্তার মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। হাসপাতালে যাওয়ার আগে পরিবার থেকে বিদায় নিচ্ছেন। বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা বলেন, ডাক্তারদের নিরাপত্তা শুধু তাদের নিজেদের জন্য নয়, দেশের জন্যও জরুরি। ৪৮ জন রোগী শনাক্ত হতেই আমরা যদি ২৪ জন ডাক্তার-নার্সের সেবা থেকে বঞ্চিত হই, তাহলে এভাবে চলতে থাকলে ২ লাখ রোগী পাওয়ার আগের সব ডাক্তার হারিয়ে যাবেন।
সারাবিশ্বে বর্তমান সময়ে আতঙ্কের নাম করোনা ভাইরাস। স্বাভাবিকভাবে বাংলাদেশও আতঙ্কিত এই ভাইরাস নিয়ে। হাট-ঘাট-মাঠ সবই শূন্য। সব যখন প্রায় বন্ধ, খোলা শুধু হাসপাতাল। আর এসব হাসপাতালে অসুস্থ মানুষদের চিকিত্সা দিচ্ছেন ডাক্তার-নার্সসহ স্বাস্থ্য সেবা কর্মীরা। আর তারাই আছেন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে। ইতিমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অনেক ডাক্তার রোগীর জীবন বাঁচাতে গিয়ে করোনা ভাইরাসের আক্রমণে প্রাণ দিয়েছেন। শতভাগ নিরাপত্তামূলক প্রস্তুতি নেয়ার পরেও তারা আক্রান্ত হয়েছেন। বাংলাদেশের ডাক্তার, নার্স ও সেবা কর্মীরাও এর বাইরে নয়। তাই তাদের একমাত্র চাহিদা ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার। কিন্তু আমাদের দেশে শুধুমাত্র মানবতার কারণে করোনা আতঙ্কের মধ্যেও নিজেদের নিরাপত্তা অনিশ্চিত রেখে চিকিত্সা দিয়ে যাচ্ছেন ডাক্তাররা।
প্রায় ১৭ কোটি মানুষের এই দেশে প্রায় এক লাখ ডাক্তার আছেন। বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসে মোট আক্রান্ত ৪৮, কিন্তু এর মধ্যে ডাক্তার-নার্সই ৭ জন। যদিও এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। কারণ করোনার রোগীকে চিকিত্সা দেওয়ার কারণে চট্টগ্রাম এবং ঢাকার অনেক ডাক্তার কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন। করোনা আক্রান্ত রোগীদের সংস্পর্শে এসে আতঙ্কে আছেন আরও অসংখ্য ডাক্তার-নার্স। করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিত্সা নেওয়ার তথ্য থেকে জানা গেছে, তাদের কেউ কেউ করোনা পজিটিভ আসার আগে পর্যন্ত বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিত্সা নিয়েছেন এবং সেখানে ডাক্তার-নার্স, আয়া, ওয়ার্ডবয় এবং মেডিকেল টেকনোলোজিস্টদের সংস্পর্শে এসেছেন। যেহেতু এই রোগের জীবাণু নীরবে বহন করা হচ্ছে বা হয়, তাই প্রতিদিন বিভিন্ন কারণে যারা হাসপাতালে যাচ্ছেন বা ডাক্তারদের চেম্বারে যাচ্ছেন তারাও রোগ ছড়াচ্ছেন। যে ডাক্তার আমাদের রক্ষা করবেন পিপিইর অভাবে তারাই হতে পারেন করোনা ছড়িয়ে দেওয়ার কারণ। চট্টগ্রামে এমন একটি ঘটনায় একটি হাসপাতালের পুরো আইসিইউ ইউনিট এখন কোয়ারেন্টাইনে রয়েছে।
আইইডিসিআরের ব্রিফিং: আইইডিসিআর পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা গতকাল শুক্রবার ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে করোনা ভাইরাস মহামারীর সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, নতুন আক্রান্ত চারজনকে নিয়ে দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের মোট সংখ্যা দাঁড়ালো ৪৮ জন। গত ৪৮ ঘণ্টায় নতুন করে কারও মৃত্যুর তথ্য না আসায় মৃতের মোট সংখ্যা আগের মতই পাঁচজনে রয়েছে। অধ্যাপক ফ্লোরা জানান, নতুন যে চারজনের মধ্যে সংক্রমণ পাওয়া গেছে, তাদের একজনের বয়স ২১ থেকে ৩০ এর মধ্যে, একজনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ এর মধ্যে, ৪১ থেকে ৫০ বছর বয়সের মধ্যে একজন এবং একজনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছর বয়সের মধ্যে। দুজন আগে যে চিহ্নিত রোগী ছিল তাদের সংস্পর্শে এসেছিলেন। একজন চিহ্নিত একটি ক্লাস্টার রয়েছে সেখান থেকে সংক্রমিত হয়েছেন। চারজনের মধ্যে দুজন চিকিত্সক রয়েছেন যারা করোনা আক্রান্ত রোগীকে চিকিত্সা দিয়েছিলেন। আক্রান্তদের দুজন ঢাকার বাইরে এবং দুজন ঢাকায় অবস্থান করছেন। চার জনের মধ্যে দুজনের দীর্ঘমেয়াদী রোগ (কোমরবিডিটি) রয়েছে বলে জানান ডা. ফ্লোরা।
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ১০৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১ হাজার ২৬ জনের। আক্রান্তদের মধ্যে সব মিলিয়ে মোট ১১ জন এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন। ডা. ফ্লোরা জানান, নমুনা পরীক্ষার পরিধি বাড়িয়েছেন তারা। আগে শুধু যারা বিদেশ থেকে এসেছেন, অথবা বিদেশ থেকে এসেছেন এমন কারও সংস্পর্শে ছিলেন তাদের নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছিল। এখন যাদের বয়স বেশি হয়েছে, ষাটোর্ধ্ব বা যাদের দীর্ঘমেয়াদী রোগ রয়েছে এমন কারও মধ্যে লক্ষণ উপসর্গ থাকলে নমুনা পরীক্ষা করছি। এছাড়া যেসব পেশার মানুষকে বিভিন্ন মানুষের সংস্পর্শে যেতে হয়, তাদেরও নমুনা পরীক্ষার আওতায় আনা হয়েছে।