রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ২০৩৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার লক্ষ্যে যে পরিকল্পনা নিয়েছিলেন তা করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে অনিশ্চয়তায় পড়েছে। এ ব্যাপারে এপ্রিলে অনুষ্ঠিত হওয়া সাংবিধানিক গণভোট তিনি স্থগিত ঘোষণা করেছেন। তাই এখন তার টানা ক্ষমতায় টিকে থাকার পথ রুদ্ধ হলো বলে মনে করা হচ্ছে। —খবর সিএনএন ও আল জাজিরার
রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, এই মুহূর্তে জনগণকে করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষা করা মূল বিষয়। কারণ এটি এখন সারা বিশ্বে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রায় দুই দশক ধরে পুতিন রাশিয়ার নেতা। পুতিনের প্রেসিডেন্ট পদে থাকা নিয়ে এপ্রিলের ২২ তারিখে এ গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। বুধবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, ‘করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় আমরা কাজ করে যাচ্ছি। তবে যেভাবে এর বিস্তার ঘটছে তাতে করে অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে বাধ্য। পুতিন বলেন, ‘আমাদের এখন ভাগ্যের ওপর ভরসা করে বসে থাকলে চলবে না। আমরা যেভাবে চলাফেরা করি সেভাবে চলাফেরা করলে হবে না। এটি এখন সবাইকে আক্রমণ করতে পারে। পশ্চিমা দেশগুলোতে যা ঘটছে তা তাত্ক্ষণিকভাবে আমাদেরও ভবিষ্যত্ পরিণতি হতে পারে। অর্থনৈতিক গতিধারা স্বাভাবিক রাখতে আমরা কিছু পদক্ষেপ নিয়েছি। ২৮ মার্চ থেকে রুশ নাগরিকদের এক সপ্তাহের বেতনসহ ছুটি দেওয়া হয়েছে। এই সময়ে তাদেরকে ঘরে থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
পুতিন বলেছেন, ‘আমরা বর্তমান পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। তবে গণভোট নিয়ে নতুন তারিখ পরবর্তীতে জানানো হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের টানা ক্ষমতায় থাকা নিয়ে এই নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্তু করোনা পরিস্থিতি সবকিছু লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছে। পুতিনের বর্তমান ক্ষমতায় থাকার মেয়াদ ২০২৪ সালে শেষ হবে। তাই পরবর্তীতে ক্ষমতায় থাকার ব্যবস্থা পাকাপোক্ত করতে ঐ গণভোটের আয়োজন করা হয়েছিল। বর্তমান বাস্তবতায় পুতিনের প্রেসিডেন্ট পদে থাকা না থাকা নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়ে গেছে। গত ১০ মার্চ দেশটির সংবিধানের একটি সংশোধন প্রস্তাবের সম্মতি দেন পুতিন। এই প্রস্তাবের ফলে প্রেসিডেন্টের মেয়াদের বাধ্যবাধকতা থাকবে না। পুতিন বলেন, ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টকে তার দায়িত্ব থেকে না সরানোর প্রস্তাব নীতিগতভাবে সম্ভব এক শর্তে। যদি সাংবিধানিক আদালত আনুষ্ঠানিকভাবে রুল জারি করে যে এই সংশোধন প্রস্তাব সংবিধানের মূলনীতি ও ধারার সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়। এ সময় তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্টের ভাষণের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিশ্ব অর্থনীতির মহামন্দার সময় রুজভেল্ট চার মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তাই দেশের স্বার্থে সামনে ক্ষমতায় থাকার বিষয়টি জনগণ বিবেচনায় আনতে পারে। অন্য একটি সূত্র জানায়, করোনার ধাক্কা সাময়িকভাবে প্রভাব ফেললেও এতে পুতিনের টানা ক্ষমতায় থাকা নিয়ে কোনো প্রভাব ফেলবে না। কারণ রাজনীতিতে তিনি পাকা খেলোয়াড়। এছাড়া তার এই খেলার মাঠে তেমন কোনো বড়ো প্রতিদ্বন্দ্বীও নেই। আর অর্থনীতির চালিকাশক্তিতে যারা রয়েছেন তারা তার কাছের মানুষ। কাজেই তার ক্ষমতায় থাকার পরিকল্পনা যে পুরোপুরি ভেস্তে যাবে তা বলা যায় না।