কুষ্টিয়া শহরে ভাঙারি কুড়াত শফি। সারা দিন কুড়ানো ভাঙাড়ি বিক্রি করে আহার জুটত বাবাহারা শফির। রাস্তা, রেল স্টেশনে সারা দিন ঘুরেও তিন বেলা খাবার জুটত না ১৬ বছর বয়সি এই কিশোরের। গত বছরের শেষ দিকে পাড়ার এক মামার সঙ্গে ঢাকায় আসে শফি। কাজ নেয় মিরপুরের একটি খাবার হোটেলে। মাসে ১ হাজার ৬০০ টাকা বেতন আর তিন বেলা খাবারের নিশ্চয়তা। আছে থাকার ব্যবস্থাও। সব মিলিয়ে কাজটি পছন্দ হয় শফির। ভালো কাটছিল সময়টা। কিন্তু করোনা ভাইরাস সংক্রমণের পর বিপাকে পড়েছে সে। সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক গত ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত হোটেল বন্ধ।
শফির ভাষায়, ‘হোটেল বন্ধ। হোটেলে আর যারা আছে সবাই মিল্লা রান্না কইরা খাই। মালিকেই সব ব্যবস্থা করছে। কিন্তু হোটেলে যেমন ভাল লাগত, তেমন লাগে না।’ নিজে থাকা-খাওয়ার পাশাপাশি মায়ের জন্য গ্রামে টাকাও পাঠায় এ কিশোর। তার ভাষায়, ‘মাসে তো ১৬০০ টাকা বেতন পাই। কাস্টমাররা যা দিয়া যায়, সব মিলাইলে ৪ হাজার টাকার বেশি হয়। মারে মাসে ৩ হাজার টাকা পাঠাই। কিন্তু এই মাসে কই থেকে পাঠামু।’
মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডে খাবার হোটেলে কাজ করে রায়হান। ১৪ থেকে ১৫ বছর বয়সি কিশোর রায়হান হোটেল থেকে দেওয়া ‘লেবার খানা’র ওপর নির্ভরশীল। অসুস্থ মা নির্ভরশীল ছেলের সামান্য আয়ের ওপর। কিন্তু ছেলের আয় এখন বন্ধ।
রায়হান জানায়, ‘হোটেলের বন্ধ করার আগে হাজার এক টাকা জমছিল। কাস্টমাররা দিয়া গেছে। ওইডাই বিকাশে পাঠাইছি। কিন্তু এক হাজার টাকায় হয় না, ওষুধ লাগে তো। দেখি মালিকের থেকে কিছু অ্যাডভান্স (আগাম) চামু।
শফি, রায়হানের মতো খাবার হোটেলে কাজ করা শত শত মানুষের এখন দুর্দিন। যারা থাকা-খাওয়ার জন্য হোটেলে কাজ করেন। আর হোটেলের খেতে আসা ক্রেতাদের দেওয়া বকশিসে তাদের পরিবার চলে। করোনার কারণে দেশে কার্যত লকডাউন চলার ফলে পরিবারপরিজন নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা। করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাব দ্রুত কেটে যাক এমনটাই প্রত্যাশা তাদের।
ইত্তেফাক/কেকে