ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ২০১৮ সালে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৫৮৫ কোটি ৬১ লাখ টাকা। যা মোট লেনদেনের ৬ দশমিক ৩২ শতাংশ। ২০১৮ সালে ক্রয়কৃত সিকিউরিটিজের পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ৪৯৬ কোটি ২৪ লাখ টাকা এবং বিক্রয়কৃত সিকিউরিটিজের পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ৮৯ কোটি ৭১ লাখ টাকা। অর্থাত্ এবছর ক্রয়ের চেয়ে বেশি বিক্রয় হয়েছে। ডিএসইতে ২০১৭ সালে বৈদেশিক লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১১ হাজার ৪৪৭ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। অর্থাত্ এক বছরের ব্যবধানে ডিএসইতে লেনদেন কমেছে প্রায় ৮৬২ কোটি টাকার। ডিএসইর বার্ষিক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এমন চিত্র উঠে এসেছে।
চলতি বছরের ডিএসইর সার্বিক লেনদেন ও অগ্রগতির চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বছর জুড়েই দেশের পুঁজিবাজারে সবচেয়ে আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল কৌশলগত বিনিয়োগকারী| দীর্ঘ কর্মকাণ্ডের পর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মালিকানার সঙ্গে কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হয় বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দুই স্টক এক্সচেঞ্জ শেনঝেন স্টক এক্সচেঞ্জ এবং সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের কনসোর্টিয়াম। এটি ডিএসই’র জন্য একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন। এই সংযুক্তির ফলে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার তথা ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ একটি উন্নত মাত্রায় পৌঁছবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা। এবছরের অর্জন সম্পর্কে ডিএসই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে. এ. এম. মাজেদুর রহমান বলেন, কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দুই স্টক এক্সচেঞ্জকে যুক্ত করা বাজারের জন্য ইতিবাচক দিক। বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার ক্ষেত্রেও এটি অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। বাজার সম্পর্কে তিনি বলেন, নির্বাচনী বছর উপলক্ষে ২০১৮ সালে বাজার কিছুটা গতি মন্থর দেখা গেছে। এর পরেও দেশের পুঁজিবাজার এমন একটি মাত্রায় অবস্থান করতে পেরেছে যার ফলে বাজারে তেমন কোনো সংকট দেখা দেয়নি বলে মনে করেন তিনি।
বেশিরভাগ শেয়ারের দর বেড়েছে
জাতীয় নির্বাচনের আগে গতকাল বৃহস্পতিবার পুঁজিবাজারে শেষ লেনদেনের দিনে সূচকের সঙ্গে সঙ্গে বেশিরভাগ শেয়ারের দর বেড়েছে। বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গতকাল ডিএসইতে মোট ৩৪৪ টি কোমপানির ১৩ কোটি ৭৭ লাখ ৫৫ হাজার ৫০৯ টি শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের হাতবদল হয়েছে। মোট লেনদেনের পরিমাণ ৫৩৮ কোটি ৩৪ লাখ ১৯ হাজার ৮৯০ টাকা। ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের কার্যদিবসের চেয়ে ৩৬ দশমিক ৪৬ পয়েন্ট বেড়ে ৫৩৮৫ পয়েন্ট, ডিএস-৩০ মূল্যসূচক ১৩ পয়েন্ট বেড়ে ১৮৮০ পয়েন্ট এবং ডিএসইএস শরীয়াহ সূচক ৬ পয়েন্ট বেড়ে ১২৩২ দশমিক ৮২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। লেনদেনকৃত কোমপানির মধ্যে দাম বেড়েছে ১৮২ টির, কমেছে ১০৮ টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৫৪ টি কোম্পানির শেয়ার। লেনদেনের শীর্ষে ছিল, ব্র্যাক ব্যাংক লি., ইউনাইটেড পাওয়ার, বেক্সিমকো লি., ন্যাশনাল লাইফ ইন্সুরেন্স, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, জেএমআই সিরিঞ্জ, খুলনা পাওয়ার, বিবিএস ক্যাবলস, কনফিডেন্স সিমেন্ট ও গ্রামীণ ফোন লি.।