আরেকটি বছর শেষের পথে। এরমধ্যে শুরু হয়ে গেছে প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হিসেব-নিকেশ। ভালো-মন্দ মিলিয়ে শেষ হচ্ছে টিভি নাটকের আরেকটি বছর। বাজেট স্বল্পতার মাঝেও বছরজুড়েই তৈরি হয়েছে একক, ধারাবাহিক আর টেলিছবি। তবে চলতি বছরে নাটক শুধু টিভিপর্দার গণ্ডিতে বাঁধা ছিল না। বছরজুড়ে ইউটিউব, বায়োস্কোপ, আইফ্লিক্সের মতো বিভিন্ন ডিজিটাল প্লাটফর্মের জন্য নাটক নির্মাণ করেছেন নির্মাতারা। বছর শেষে টিভি নাটকের এসব হিসেব-নিকেশ নিয়ে এই প্রতিবেদনটি। লিখেছেন নুরুল করিম
ভালোবাসা দিবস, বাংলা নববর্ষ ও ঈদের পাশাপাশি পুরোবছরই নাট্যাঙ্গনে ছিল ব্যস্ততা। সেকারণে বেড়েছে নাটকের সংখ্যা, ঠিক তেমনি নাট্য নির্মাতার সংখ্যাও। বেশিরভাগ অভিনয়শিল্পীর কাজ বেড়েছে, সেইসাথে জন্ম নিয়েছে কয়েকটি নতুন জুটিও।
তবে এত এত চ্যানেলে এত বেশি নাটক প্রচার হয় যে, বেশিরভাগই অদেখা রয়ে যায় দর্শকদের। তবে ইউটিউবের কল্যাণে দর্শকদের নাটক দেখা হয় ঠিকই। মূলত খণ্ডনাটক সারাবছর প্রচার হলেও আলোচনায় আসে বছরের দুটি ঈদে প্রচারিত নাটকগুলো। এ দুটি উত্সবে প্রচারিত নাটকগুলোই সারাবছর ইউটিউবে ঘুরে বেড়ায়। তাই নাটকের সালতামামি টানলে ঈদের নাটকগুলোই ঘুরে ফিরে সামনে আসে।
আলোচনা-সমালোচনার বিচারে এ বছরের সেরা আলোচিত নাটক হচ্ছে আরিয়ান পরিচালিত ‘বুকের বা পাশে’। নিশো-মেহজাবীন অভিনীত এ নাটকটি বছরের বেশিরভাগ সময় ধরে আলোচিত ছিল। রোমান্টিক নাটক হিসেবে এটি অনেক দর্শকের মন ছুঁয়ে গেছে। পাশাপাশি মাহতাব শাকিবের কণ্ঠে আবহসঙ্গীতটিও দারুণ। এছাড়া মাহফুজ-অপি করিম অভিনীত ‘নীলগ্রহ’ নাটকটিও আলোচনার কেন্দ্রে ছিল বছরের অনেক সময় ধরে।
এছাড়া আফরান নিশো-মেহজাবীন জুটির সিনেমা জীবন, ফেরার পথ নেই ও নীরবতা, রিয়াজ-তানিয়া আহমেদের কলুর বলদ, অপূর্ব-মোনালিসার হয়তো তোমার কাছেই যাবো, তৌসিফ-তানজিন তিশার এই শহরে কেউ নেই, চঞ্চল চৌধুরী-তিশার আয়েশা, আরফান নিশো-সাবিলা নূরের শাড়ি, সৈয়দ হাসান ইমাম অভিনীত পাতা ঝরার দিন, অপূর্ব-মিথিলার নীল ফড়িঙের গল্প, অপূর্ব-মমর আনমনে তুমি, আফরান নিশো-তানজিন তিশার হোম টিউটর, তানভীর-সাবিলা নুরের কিছু দুঃখ সবারই থাকে, জন কবিরের আমার নাম মানুষ, মেহজাবীন চৌধুরী অভিনীত সোনালি ডানার চিল, তাহসান-মম অভিনীত সোনালি ইলিশের গল্প, শহীদুজ্জামান সেলিমের বাবার জুতা, সূবর্ণা মুস্তফা অভিনীত অপেক্ষা, কামরুজ্জামান মিলু-নাবিলার দ্য অরিজিনাল আর্টিস্টসহ আরো বেশকিছু একক নাটক বছরের বেশিরভাগ সময় ধরে আলোচনায় ছিল।
তবে খণ্ডনাটকের ক্ষেত্রে বছরটা খুব একটা ভালো যায়নি। মোশাররফ করিম ও জামিল অভিনীত হাইপ্রেশার, চঞ্চল চৌধুরী-নাদিয়া নদী অভিনীত নসু ভিলেনের সংসার, মোশাররফ করিম-নুসরাত ইমরোজ তিশার মাহিনের লাল ডায়েরি দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করে। ধারাবাহিক নাটকের মধ্যে সাগর জাহান পরিচালিত ল্যাম্প পোস্ট, মিজানুর রহমান আরিয়ানের গল্পগুলো আমাদের দর্শকদের পছন্দের শীর্ষে ছিল।
এ বছর নাট্যাঙ্গনের সবচেয়ে বড় আর্শীবাদ ছিল অসংখ্য শিশুতোষ নাটক নির্মাণ। যার মধ্যে ব-তে বন্ধু, শহর থেকে দূরে ও গল্প শেষে ঘুরে দেশে-এ তিনটি ধারাবাহিক বেশ জনপ্রিয়তা পায়। এছাড়া মেহের আফরোজ শাওন নির্মিত বোতল ভূতও শিশুরা বেশ পছন্দ করেছে।
নির্মাতা গাজী রাকায়েত বলেন, ‘বছরটা ভালো-মন্দ মিলিয়েই ছিল। তবে ২০১৭ থেকে ভালো যায়নি। এর কারণ টিভি চ্যানেলগুলোর মধ্যে এ বছর সাহসের অভাব দেখা গেছে। সাহস বলতে বড় বাজেট লগ্নির সাহসের অভাব।’
অভিনেতা আফরান নিশো বলেন, ‘বছরজুড়েই ভালো কিছু করার চেষ্টা আমার মাঝে ছিল। কিন্তু কতটা সফল হয়েছি সেটা দর্শকরাই ভালো বলতে পারবেন। তবে সামগ্রিক বিষয়টুকু বলতে গেলে, এ বছর অসংখ্য ভালো নাটক হয়েছে। কিন্তু এই চর্চাটা আরো বাড়ানো দরকার।’
ধারাবাহিক নাটকে ধারাবাহিকতা না থাকা, খণ্ডনাটক টেনে লম্বা করা এবং একক নাটকে নিম্নমানের গল্পের কারণে দিনদিন টিভি থেকে দর্শকরা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। সেইসাথে মাত্রাতিরিক্ত বিজ্ঞাপন তো আছেই। তাই দর্শকরা আগ্রহী হচ্ছেন ডিজিটাল প্লাটফর্মে। নাটক নির্মাণ করতেও রয়েছে শত সমস্যা! নতুন বছরে এসব সমস্যার সমাধানের পথ খুঁজে সেইপথে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন নাট্য বোদ্ধারা।