বিদেশ থেকে মফিজ ফেরে এবং ফেরে হারুন,
খবর শুনে হাশেম কাশেম বলল সবাই—দারুণ।
বারেক তারেক আবুল সাবুল খোকন মাখন দারা,
মালেক মিঞার চা-র দোকানে বসল গিয়ে তারা।
দিচ্ছে কত গল্প মফিজ বিদেশে কী আছে—
আপেল আছে, কমলা আছে—ঝুলছে যে যার গাছে।
বাতাস আছে সাগর পাড়ে, পানি আছে লেকে,
ঝরনা আছে—কত পানি পড়ছে সেখান থেকে।
পাহাড় আছে—তার ভেতরে আছে কত গুহা—
গল্প শুনে চা-র দোকানে করছে সবাই হু-হা।
হঠাত্ উঠে বারেক মিঞা প্রশ্ন করে হেসে,
‘করোনা না ফরোনা—তা আছে ওসব দেশে?
একটা দুটো নাই তো আবার তোদের কারো দেহে?’
মফিজ শুনে হি-হি করে, হারুন করে হে-হে—
‘সকাল থেকে একটু তবে সর্দি আছে নাকে,
বায়ু বদল হলে ওসব একটু-আধটু থাকে।’
কত মাইল জার্নি করে কেবল এল দেশে,
তাই একটু কাশি আছে—দেখাল সে কেশে,
আর একটু গলায় ব্যথা—ঢোক গিলে সে দেখায়।
চা-দোকানি ব্যস্ত তখন বাকির খাতা লেখায়।
মফিজ মিঞার সর্দি ও জ্বর কমল ক’দিন পরেই,
বারেক মিঞা পড়ল ওদিক সেই ভয়ানক জ্বরেই।
মফিজ মিঞার অল্প বয়েস, তাকত ছিল বেশি,
রোগপ্রতিরোধ শক্তি ছিল, শক্ত ছিল পেশি,
কমলা আপেল বোধহয় কিছু পড়েছিল পেটে,
জ্বর এসে তার গায়গতরে বসেনি তাই এঁটে।
কিন্তু কি তার বুড়ো বাবার শক্তি আছে অত?
তার যখনই জ্বর হলো সে হয়ে গেল গত।
বারেক তারেক হাশেম কাশেম খোকন মাখন দারা,
মালেক মিঞার চা-র দোকানে কেউ বসে না তারা।
বাকির খাতায় যা ছিল সব থাকল পড়ে বাকি,
মালেক মিঞাও সর্দি-জ্বরে মরে গেছে নাকি।
সুস্থ কোনো লোক সে গাঁয়ে বলতে গেলে নাই-ই,
এর পেছনে মফিজ মিঞার আড্ডা মারাই দায়ী।
তাই বলি, ভাই, বিদেশ থেকে এলাম যারা দেশে,
দিন পনেরো ঘরেই থাকি, দেশকে ভালোবেসে।