পেঁয়াজের ভাণ্ডার বলে পরিচিত পাবনায় এক দিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের পাইকারি দাম কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা কমেছে। শুক্রবার হাটবাজারে প্রতি কেজি যে পেঁয়াজ পাইকারি ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হয়েছিল, সেই পেঁয়াজ গতকাল রবিবার ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় নেমে এসেছে। পেঁয়াজ চাষিদের হঠাত্ করেই জমি থেকে পেঁয়াজ তোলা বেড়ে যাওয়ায় এবং হাটবাজারে সরবরাহ হওয়ায় দাম কমেছে।
মাস তিনেক আগেও সাধারণ মানুষের প্রায় ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিল পেঁয়াজ। তখন প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম উঠেছিল ২৫০ টাকার বেশি। অথচ ১৫ মার্চ সুজানগর, টেবুনিয়ার বাজারে পাইকারিতে তা বিক্রি হয় ৩০ থেকে ৩২ টাকায়। এই দামে পেঁয়াজচাষিরা লোকসানে পড়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু চলমান করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে দাম বেড়ে যায়।
করোনা ভাইরাসের কারণে পেঁয়াজের সংকট দেখা দিতে পারে বলে সুজানগর, সাঁথিয়া, সদর উপজেলার পেঁয়াজের হাটগুলো থেকে ব্যবসায়ীদের পেঁয়াজ কেনার হিড়িক পড়ে। এতে চাহিদা বাড়ার পাশাপাশি দামও বাড়তে থাকে। ২০ মার্চ পর্যন্ত সপ্তাহখানেক টানা দাম বাড়তে বাড়তে প্রতি কেজি পেঁয়াজের পাইকারি দর ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় দাঁড়ায়। খুশি হয়ে যান এই দামে পেঁয়াজচাষিরা। কৃষকেরা তাই ভালো লাভের আশায় ও ভবিষ্যতে দাম কমে যাওয়ার আশঙ্কায় জমি থেকে দ্রুত পেঁয়াজ তুলতে থাকেন। ফলে বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ ব্যাপক বেড়ে যায়। এ কারণে রবিবার প্রতি কেজিতে পেঁয়াজের দাম গড়ে ১৫ টাকা কমে যায় বলে জানান ব্যবসায়ী ও কৃষকরা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, পাবনার উপপরিচালক আজাহার আলী জানান, চলতি মৌসুমে ভালোমানের পেঁয়াজ ব্যাপক পরিমাণে উত্পাদন হয়েছে। চলতি রবি মওসুমে পাবনা জেলায় কন্দ-চারা পেঁয়াজ মিলে ৫ লাখ ৯৩ হাজার ৩২৩ টন পেঁয়াজ উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করে ৪৯ হাজার ৪২০ হেক্টর জমিতে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় এক হাজার ১২০ হেক্টর জমিতে বেশি আবাদ হয়েছে। আশা করা যায়, অনিবার্য কোনো দুর্যোগ না হলে উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রাও ছাড়াবে।
টেবুনিয়া হাটে পেঁয়াজ কিনতে আসা ব্যবসায়ী গোলাম মোস্তফা গতকাল ইত্তেফাককে বলেন,‘পেঁয়াজের দাম একেবারে কমে গিয়েছিল। কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে পেঁয়াজের চাহিদা বাড়ায় দাম আবারও বেড়ে যায়। কৃষকরা এই সুযোগে জমি থেকে বেশি বেশি পেঁয়াজ তুলছেন। তাই আজ হাটে পেঁয়াজের অস্বাভাবিক আমদানি দেখা যাচ্ছে।’