রাজধানীতে খাবারের দোকানগুলো খোলার ব্যাপারে নিয়ম কিছুটা শিথিল করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। তবে অবশ্যই করোনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যগত সুরক্ষা নিয়ে পথে বের হতে হবে। মানুষের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে ডিএমপির উপ-কমিশনার (ডিসি), অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি), সহকারী কমিশনার (এসি) এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) এই বার্তা দেন ডিএমপি কমিশনার শফিকুল ইসলাম। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির জনসংযোগ শাখার উপ-কমিশনার (ডিসি) মাসুদুর রহমান। কমিশনারের ১০টি নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, অনেকের রান্নার ব্যবস্থা নেই, তাদের জন্য খাবার হোটেল, বেকারি খোলা রাখতে দিতে হবে। এগুলোতে কর্মরত কর্মচারীদের সড়কে চলাচল করতে দিতে হবে। নিত্যপ্রয়োজনীয় ও অপরিহার্য পণ্যের দোকান খোলা রাখতে দিতে হবে, এসব দোকানে কর্মরতদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাচল করতে দিতে হবে। তবে খাবার কিনে নিয়ে বাসায় খেতে হবে। রেস্টুরেন্টে বসে খাওয়া যাবে না।
কেনার ক্ষেত্রেও আমাদের নির্দেশনা আছে। গায়ে গায়ে দাঁড়ানো যাবে না। অবশ্যই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা চান পুলিশের এই কর্মকর্তা।
পুলিশ সদস্যদের আরো জানানো হয়েছে যে, হোটেল ও বেকারিতে যারা কাজ করেন, তাদের স্বাধীনভাবে চলাফেরার সুযোগ দিতে হবে। নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দোকান খোলা থাকবে। তাদের কর্মীরাও নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারবেন। একজন ব্যক্তি যেকোনো মাধ্যম ব্যবহার করে রাস্তায় চলাফেরা করতে পারবেন। তবে সে ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
একই সঙ্গে, চিকিত্সার কাজে নিয়োজিত চিকিত্সক, নার্স, চিকিত্সা সহকারী ও টেকলোজিস্ট, সিটি করপোরেশন ও নিরাপত্তা প্রহরীদের ব্যাপারে যত্নশীল হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের অসৌজন্যমূলক আচরণ না করে পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণ দিন দিন বাড়তে থাকায় গত বৃহস্পতিবার থেকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য রাস্তায় পুলিশ এবং সেনাবাহিনী কাজ করছে। বুধবার রাত থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে মাস্ক না পরা বা বাইরে বের হওয়ার জন্য পুলিশের লাঠিপেটা, কান ধরে উঠবস করানোর দৃশ্য চোখে পড়েছে। সাধারণ মানুষের সঙ্গে পুলিশের এ ধরনের আচরণ নিয়ে বিভিন্ন মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এ ছাড়া বিভিন্ন এলাকায় রিকশা থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে দেখা যায় পুলিশকে। সরকার নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দোকানপাট খোলা রাখার নির্দেশনা দিলেও শুক্রবার পর্যন্ত ঢাকাসহ সারাদেশে এ ধরনের অনেক দোকানই পুলিশ খুলতে দেয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।