করোনা দুর্যোগ মোকাবিলায় দরিদ্রদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণে সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন সংগঠন ও সংস্থাসহ ব্যক্তিপর্যায়েও উদ্যোগে নেওয়া হয়েছে। ঢাকা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গতকাল মিরপুরের হারুনাবাদ বস্তিতে ২০০ পরিবার এবং তেজগাঁওয়ের নাখালপাড়া বস্তিতে ৩০০ পরিবারের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। এ সময়ে প্রত্যেক পরিবারকে ১০ কেজি চাল, দুই কেজি ডাল ও পাঁচ কেজি আলু বিতরণ করা হয়। গতকাল এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য আলহাজ ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবুল ফাতে মোহাম্মদ সফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. মমিনউদ্দিন, রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর মো. মেহেদী হাসান, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আলমামুন, অ্যাসিল্যান্ড তেজগাঁও, অ্যাসিল্যান্ড মিরপুর, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলরসহ গণ্যমান্য ব্যক্তি। ত্রাণ বিতরণের সময় রেডক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবীরা সহযোগিতা করেন।
আজ প্রতি থানায় ৫০ জনকে খাবার দেবে ডিএমপি কমিশনার
রাজধানীর ৫০টি থানায় প্রতিদিন ২ হাজার ৫০০ ছিন্নমূল মানুষকে এক বেলা করে খাবার সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শফিকুল ইসলাম। আগামী ৪ এপ্রিল পর্যন্ত প্রতিদিন দুপুরে ডিএমপির প্রতিটি থানায় ৫০ জন করে ছিন্নমূলের মধ্যে প্যাকেটে করে এ খাবার পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। আজ রবিবার থেকে এ খাবার দেওয়া শুরু হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির উপ-কমিশনার (সদর) আনিসুর রহমান। তিনি বলেন, সরকার সারাদেশে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত যে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সেইদিন পর্যন্ত ডিএমপি কমিশনারের পক্ষ থেকে ছিন্নমূলদের মধ্যে এভাবে খাবার সরবরাহ করা হবে।
পুলিশ সদস্যদের ব্যক্তিগত উদ্যোগ
খাবার বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ। শুক্রবার রাতে ধানমন্ডি হাজারীবাগ ও রাসেল স্কয়ার এলাকায় গরিব মানুষের মাঝে খাবারসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে রমনা বিভাগের পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আবদুল্লাহ হিল কাফি বলেন, আমরা সাত জন পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্য মিলে নিজেদের বেতনের টাকা দিয়ে প্রতিটি প্যাকেটে তিন কেজি চাল, আধা কেজি ডাল, এক কেজি আলু, এক কেজি পেঁয়াজ, আধালিটার তেল ও একটি সাবান দেই। আবদুল্লাহ হিল কাফি আরো বলেন, আমাদের এ উদ্যোগের কথা জেনে অন্য পুলিশ অফিসার ও আমাদের বন্ধুদের অনেকেই গরিব মানুষকে সহযোগিতায় এগিয়ে আসার কথা ব্যক্ত করেন। এরই ধারাবাহিকতায় ব্যবসায়ী শাহেদ শাহরিয়ার ও ডা. সম্রাট খালেক নাসের শনিবার রাতে জিগাতলা ও সেগুনবাগিচা এলাকায় দুস্থদের মধ্যে খাবার বিতরণ করেছেন। একই এলাকায় তারা আজ রাতেও খাবার বিতরণ করবেন।
মানিকগঞ্জে খাদ্য সহায়তা জেলা প্রশাসনের
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, মানিকগঞ্জে খাদ্য সহায়তা দেওয়া শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। গতকাল জেলা প্রশাসক এস এম ফেরদৌস তার কার্যালয় চত্বর থেকে ৭০ জনের হাতে চাল, ডাল ও আলু তুলে দিয়ে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এরপর তিনি সদর উপজেলার জাগীর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় চত্বর থেকে অনুরূপ খাদ্য সহায়তা তুলে দেন আরো ৩০ জনকে। প্রতি ব্যক্তিকে দেওয়া হয় ১০ কেজি চাল, পাঁচ কেজি আলু এবং দুই কেজি ডাল। তিনি বলেন, এ পর্যন্ত জেলার জন্য মোট বরাদ্দ পাওয়া গেছে ২৪৬ মেট্রিক টন চাল এবং নগদ ৭ লাখ টাকা। চাহিদা অনুযায়ী আরো বরাদ্দ পাওয়া যাবে। এরই মধ্যে অন্যান্য উপজেলায়ও দুস্থ ব্যক্তিদের মাঝে খাদ্যসহায়তা বিতরণ শুরু হয়েছে। এই সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
ঘিওরে লকডাউন এলাকায় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ
ঘিওর (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, ঘিওরের বাইলজুরি গ্রাম লকডাউন ঘোষণা করেছে স্থানীয় প্রশাসন। সেইসঙ্গে প্রতিবেশী ছয় পরিবারের ২৮ ব্যক্তিকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে পুলিশের বিশেষ প্রহরায়। এই অবস্থায় ঐ গ্রামটির সঙ্গে কার্যত সবপ্রকার যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। লকডাউনকৃত গ্রামের মানুষের মধ্যে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিয়েছে ঘিওর উপজেলা প্রশাসন। গতকাল দুপুরে লকডাউন এলাকা পয়লা ইউনিয়নের বাইলজুরীতে সরকারি অনুদানের খাদ্য সহায়তা হিসেবে চাল, ডাল, আলু, তৈল ও লবণ বিতরণ করে উপজেলা প্রশাসন। এসময় ৩৫ জনকে ১০ কেজি করে চাল, ৫ কেজি আলু, ২ কেজি ডাল, ১ কেজি তেল, ১ কেজি লবণ বিতরণ করা হয়।