বৃদ্ধদের কান ধরানোর ঘটনায় সেই নারী ম্যাজিস্ট্রেট প্রত্যাহার

মাস্ক না পরায় যশোরের মনিরামপুরে পিতার বয়সি বৃদ্ধ ভ্যানচালকদের কান ধরে দাঁড় করিয়ে সাজা দেওয়ার অপরাধে উপজেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইয়েমা হাসানকে প্রত্যাহার করে খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হবে। একথা জানিয়েছেন মনিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আহসান উল্লাহ শরিফী। ভুক্তভোগী সেই তিন বৃদ্ধের বাড়িতে গিয়ে দুঃখও প্রকাশ করেছেন তিনি। ঐ তিন বৃদ্ধের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত ‘জমি আছে ঘর নাই’ প্রকল্পের আওতায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নতুন বাড়ি তৈরি করে দেওয়া হবে।

গতকাল শনিবার দুপুরে ইউএনও উপজেলার চিনাটোলা এলাকায় ঐ তিন বৃদ্ধের বাড়িতে যান। শুক্রবার বিকালের ঘটনার জন্য ক্ষমা চেয়ে তিন পরিবারকে ১০ কেজি              করে চাল দেন। তাদের নিরাপদে বাড়িতে থাকার জন্য বলেন। আর খাবার ফুরিয়ে গেলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগ করার কথা বলেন। বাড়িতে খাবার পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

ইত্তেফাককে ইউএনও বলেন, আমাদের একজন জুনিয়র সহকর্মীর এমন আচরণে আমরা দুঃখ পেয়েছি। এজন্য তাদের বাড়ি গিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছি। আসলে খাবারের জন্যই তারা বেরিয়েছিলেন। এজন্য তাদের খাবারের ব্যবস্থা করেছি। ফুরিয়ে যাবার আগেই তাদের আবারও খাবার পৌঁছে দেওয়া হবে। আর মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে এই উপজেলার সবাই ঘর পাবেন। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই তিন জনকে আগে নতুন বাড়ি করে দেওয়া হবে।  

উল্লেখ্য, শুক্রবার বিকালে মণিরামপুুরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইয়েমা হাসানের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে চিনাটোলা বাজারে অভিযানের সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের সামনে পড়েন প্রথমে দুই বৃদ্ধ। এর মধ্যে একজন বাইসাইকেল চালিয়ে আসছিলেন। অপরজন রাস্তার পাশে বসে কাঁচা তরকারি বিক্রি করছিলেন। তাদের মুখে মাস্ক ছিল না। এ সময় পুলিশ ঐ দুই বৃদ্ধকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করলে সাইয়েমা হাসান শাস্তি হিসেবে তাদের কান ধরিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখেন। শুধু তাই নয়, এ সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিজেই তার মোবাইল ফোনে এ চিত্র ধারণ করেন। পরবর্তীতে অপর এক ভ্যানচালককে অনুরূপভাবে কান ধরিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখেন। এ ঘটনায় ফেসবুক জুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে।