নাগরিকদের সঙ্গে সম্মানজনক আচরণের নির্দেশ প্রশাসনের

মাঠ প্রশাসনকে দেশের নাগরিকদের সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গতকাল শনিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এই নির্দেশনা জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) কাছে পাঠানো হয়েছে। যশোরের মণিরামপুরে মাস্ক না পরায় অ্যাসিল্যান্ড সাইয়েমা হাসানের বৃদ্ধদের কানধরে উঠবস করানোর ঘটনায় তুমুল সমালোচনার মধ্যে মাঠ প্রশাসনকে এমন নির্দেশনা দিল সরকার। জনপ্রশাসন সচিব শেখ ইউসুফ হারুন ইত্তেফাককে বলন, ‘আমরা সব জেলা প্রশাসককে বলেছি, এই ধরনের ঘটনার যাতে পুনরাবৃত্তি না হয়। সিনিয়র সিটিজেন তো অবশ্যই, যেকোনো নাগরিকের সঙ্গে যাতে সম্মানজনক আচরণ করা হয়।’

ছুটির মধ্যে কীভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের ফেসবুক পেজে জেলা প্রশাসকদের প্রতি নির্দেশনাটি আমরা আপলোড করে দিয়েছি।’

অ্যাসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু, মামলা হবে

জনপ্রশাসন সচিব শেখ ইউসুফ হারুন ইত্তেফাককে বলন, আমি যশোরের জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দিয়েছি ঘটনাটির তদন্ত করার জন্য। অফিস খুললে তদন্ত রিপোর্ট সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে ঐ নারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করবেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। তিনি নিজেই গতকাল সাংবাদিকদের কাছে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

‘দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিলে এই প্রবণতা কমবে’

কুড়িগ্রামের ডিসি সুলতানা পারভীনের ঘটনার কয়েকদিনের মধ্যেই যশোরের মনিরামপুরে অ্যাসিল্যান্ড বয়োজ্যষ্ঠ নাগরিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করলেন। এই ঘটনাগুলোর পর প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ নিয়ে? জানতে চাইলে সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার ইত্তেফাককে বলেন, ‘অবশ্যই প্রশিক্ষণ হয়। দেখেন যেখানে আইনশৃঙ্খলাজনিত পরিস্থিতির বিষয় থাকে সেখানে কিন্তু নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব পালন করেন প্রশাসনের কর্মকর্তারাই। কেন তাদের এই দায়িত্ব দেওয়া হয়? কারণ তাদের হাতে লাঠি থাকে না।               সেনাবাহিনী নামলেও কিন্তু প্রশাসনের কর্মকর্তারা এই দায়িত্ব পালন করেন। সেনাসদস্য বা পুলিশ সদস্যদের হাতে লাঠি থাকে, অস্ত্র থাকে। সেটার যেন কোনো ধরনের অপপ্রয়োগ না নয় সে কারণেই অস্ত্র, লাঠি ছাড়া প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিতে হয়। তারা মানবাধিকারের বিষয়টি অবশ্যই নজরে রেখে সিদ্ধান্ত দেবেন। তাই বলছি, মনিরামপুরের অ্যাসিল্যান্ড যে কাজ করেছেন, তার বড়ো শাস্তি হওয়া দরকার। আমি মনে করি, কুড়িগ্রামে যেটা হয়েছে সেখানে প্রশাসন শিথিলতা দেখিছে। আরডিসি নাজিম উদ্দিনকে সাসপেন্ড করা উচিত ছিল। ডিসি সুলতানা পারভীনকে শুধু প্রত্যাহার না, ওএসডি করতে হতো। আর এখন মনিরামপুরের ঘটনায় তো আমি নিজেই প্রশাসন ক্যাডারে চাকরি করেছি, এ কথা বলতে লজ্জা হচ্ছে। তাই বলছি, তাকে শুধু প্রত্যাহার করলে হবে না কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।’

প্রশিক্ষণের বিষয়ে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন সচিব বলেন, ‘ ৩ হাজার কর্মকর্তা মাঠ প্রশাসনে কাজ করছেন। সবারই একই প্রশিক্ষণ। কিন্তু সবার ব্যবহার এক না। কারণ তার পারিবারিক শিক্ষা, কোথায় পড়াশোনা করেছেন, এগুলোসহ অনেক বিষয় থাকে। যারা শৃঙ্খলা ভঙ্গ করছেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে কঠোর ব্যবস্থা :জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী

মাঠ প্রশাসনে দায়িত্ব পালনের সময় সরকারি কর্মকর্তারা শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। গতকাল সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলন, ‘সরকারি চাকুরেদের জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করতে হবে। জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) মাধ্যমে তাদের সেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, এর ব্যত্যয় হলে ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যেতে পারে। বেআইনি ও অকর্মকর্তাসুলভ আচরণের দায়ে যশোরের মনিরামপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইয়েমা হাসানকে শনিবারই প্রত্যাহার করা হয়েছে। কুড়িগ্রামের ডিসির ঘটনার পর আমরা জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা দিয়েছিলাম। আবারও তাদের বেশকিছু নির্দেশনা দিয়েছি। আমরা বলেছি, আপনাদের (ডিসি) অধীনে যারা কাজ করেন তারা যেন জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করেন। বাহাদুরি দেখানোর জন্য কোনো কাজ করলে, শৃঙ্খলাবিধি ভঙ্গ করলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’