চট্টগ্রাম শহরে সুনসান নীরবতার মধ্যে হঠাত্ একটি মাইক্রোবাস এসে দাঁড়াল এবং দ্রুত খাদ্য সামগ্রীর কয়েকটি ব্যাগ নামিয়ে দিল। ফুটপাতে থাকা নিরন্ন মানুষগুলো তাত্ক্ষণিক প্যাকেটগুলো পেয়ে কিছুটা আশ্চর্যই হলো। গাড়ির ভেতরে কে বা কারা তা জানান না দিয়েই দ্রুত চলে গেল। গতকাল শনিবার নগরীর কয়েকটি জায়গায় এ ধরনের দৃশ্য দেখা গেছে।
চট্টগ্রাম মহানগরীতে নিম্ন আয়ের মানুষদের এভাবে প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে সহযোগিতার পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে। চাল, ডাল, আলু, চিনি, তেলসহ বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে জেলা প্রশাসন থেকেও গতকাল নগরীর বিভিন্ন এলাকায় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করতে দেখা যায়। চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলমকেও পণ্যভর্তি প্যাকেট বিভিন্ন ক্লাব, সংস্থা, সমিতির নিকট বণ্টনের জন্য পাঠিয়ে দিতে দেখা গেছে। বিভিন্ন বিত্তশালী ব্যক্তি প্রশাসন ও সংস্থার মাধ্যমে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন।
এর আগে কোভিড-১৯ এর প্রার্দুভাবের শুরুতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি উদ্যোগে লোকজনের মধ্যে মাস্ক, স্যানিটাইজার ও সাবান বিতরণ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম কলেজ, মহসীন কলেজসহ নগরীর কয়েকটি কলেজের রসায়ন বিভাগ স্যানিটাইজার তৈরি করেছে। এসব স্যানিটাইজার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব, রেডক্রিসেন্ট ছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিজেদের কর্মকর্তা-কর্মচারীর কাছে পৌঁছে দিয়েছে। সার্ভ ফর স্মাইল নামক একটি সংস্থা ক্লিফটন গ্রুপের সহায়তায় সিটি করপোরেশন, পুলিশ প্রশাসনসহ বিভিন্ন সংস্থাকে নিজেদের তৈরি মাস্ক ও স্যানিটাইজার প্রদান করে।
এমএন গ্রুপ নামক একটি প্রতিষ্ঠান নগরীতে মাস্ক, সাবানসহ বিভিন্ন সামগ্রী বিতরণ করে। এর সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন করোনা ভাইরাস থেকে মুক্তি পেতে করণীয় সংক্রান্ত লিফলেট এবং জীবাণুনাশক ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করতে দেখা যায়। ইতিমধ্যে চট্টগ্রামের একাধিক গার্মেন্টস স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত লোকজনের জন্য পিপিই তৈরির কাজ শুরু করেছে।