চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) একটি পাহাড়ে আবারও আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি ১০ দিনের ব্যবধানে চবির পাহাড়গুলোতে পাঁচবার আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। ২১ মার্চ বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঝরনার পাশের পাহাড়ে আবারও আগুন দেখা যায়। আর এসব পাহাড়ে যেমন বিভিন্ন প্রজাতির সাপ আর ব্যাঙের তীর্থস্থান, তেমনই দেখা মেলে মায়া হরিণেরও। ক্যাম্পাসজুড়ে থাকা বিভিন্ন পাহাড়ে রয়েছে হাজার হাজার দেশি-বিদেশি নানা প্রজাতির বৃক্ষ। রয়েছে বিপুল প্রাণীর সমাহার। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে পাহাড় কাটা, গাছপালা কেটে বন উজাড় এবং বারবার পাহাড়ে অগ্নিসংযোগের ফলে হুমকির মুখে রয়েছে চবির জীববৈচিত্র্য।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ রকম চলতে থাকলে এক সময় চবির জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হয়ে যাবে। ক্যাম্পাস হারাবে তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক ড. গাজী সৈয়দ মোহাম্মদ আসমত উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, যে পরিমাণ পাহাড় আগে ছিল তা আর এখন নেই। পাহাড় কেটে রাস্তা বানানোর ফলে অনেক পাহাড় ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। ফলে এখন আর বন্যপ্রাণি ও রকম নেই বললেই চলে। তার ওপর বারবার পাহাড়ে অগ্নিসংযোগের ফলে যা ছিল তাও বিলুপ্তির পথে। তার দাবি, এরকম চলতে থাকলে এক সময় ক্যাম্পাসে কোনো বন থাকবে না। থাকবে না কোনো পশুপাখিও।
এসব বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে শিক্ষার্থীদেরও সরব থাকতে দেখা যায়। পাহাড় কাটার প্রতিবাদে এবং ক্যাম্পাসের প্রাণ প্রকৃতি রক্ষার দাবিতে ক্যাম্পাসে মানববন্ধনও করেছিলেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা প্রক্টর বরাবর স্মারকলিপিও দিয়েছিলেন।
এদিকে, ২৯ জানুয়ারি ক্যাম্পাসের বনজ গাছপালা সংরক্ষণ ও গাছসহ যেকোনো ধরনের দ্রব্যাদি ক্যাম্পাসের বাইরে নেওয়া এবং নির্বিচারে গাছ কাটার বিষয়টি প্রতিরোধ করতে একটি কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কমিটিতে আহ্বায়ক করা হয় প্রক্টর এস এম মনিরল হাসানকে। কমিটির সদস্য ছিলেন, সহকারী প্রক্টর এস এম জিয়াউল ইসলাম, মোহাম্মদ রিফাত রহমান, সম্পত্তি (এস্টেট) শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার মাহাবুব হারুন চৌধুরী, সেকশন অফিসার মো. বদিউল আলম এবং মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। তাদের মধ্যে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা পদত্যাগ করেন। পদত্যাগ করার কারণ হিসেবে প্রক্টর অধ্যাপক এসএম মনিরুল হাসান দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় অভ্যন্তরে যারা গাছ নিয়ে যায় অনেকেই বলে তাদের নিজেদের বাগানের গাছ। এখন আমাদের পক্ষে আসলে এটা সত্য মিথ্যা নির্ধারণ করা সম্ভব হবে না। কারণ এতো বড়ো এলাকাতে আমাদের লোকবলও তেমন নেই। তাই এটার স্বচ্ছতা আনতে আমরা এই সিদ্ধান্ত নিই।’