গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ রাখার অনুরোধ কিংবা নির্দেশনা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। কারখানা মালিকদের দুটি সংগঠনের অনুরোধ কিংবা নির্দেশনায় সমন্বয়হীনতার পর সরকারের শ্রম মন্ত্রণালয়ে স্পষ্টীকরণেও এ বিভ্রান্তি কাটানো যায়নি। ফলে গতকাল কিছু কারখানা খোলার চেষ্টা করা হলেও শ্রমিক বিক্ষোভের মুখে সফল হয়নি। সূত্র জানিয়েছে, দেশব্যাপী হাতেগোনা দু-একটি কারখানা বাদে বাকি কারখানা বন্ধই করে দিতে হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আজো কারখানা খোলা রাখার সুযোগ কম। শুধু তাই নয়, যেসব কারখানা বর্তমানে চিকিত্সকদের নিরাপত্তা সরঞ্জাম (পিপিই) তৈরির কাজ করছে, সেসব কারখানায়ও কাজ করা সম্ভব হয়নি।
গত ২৫ মার্চ প্রথম পোশাক শিল্পমালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ সদস্যভুক্ত কারখানাগুলোকে করোনা ভাইরাস ইস্যুতে নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে কারখানা আপাতত বন্ধ রাখার অনুরোধ জানায়। প্রধানমন্ত্রীর জাতির উদ্দেশে ভাষণের পর দিন ২৬ মার্চ বিজিএমইএও একইভাবে কারখানা বন্ধ রাখার বিষয়টি ‘বিবেচনা’ করার অনুরোধ জানায়। এর মধ্যদিয়ে কারখানা মালিকরা বার্তা পান যে, কারখানা বন্ধ রাখতে হবে। কিন্তু যেসব কারখানায় ক্রয়াদেশ রয়েছে এবং পিপিই তৈরির কাজ চলছে, সেসব কারখানা চালু রাখার বিষয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। ২৭ মার্চ শ্রম মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডিআইএফই) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, যেসব কারখানায় বিদেশি ক্রেতার কাজ রয়েছে এবং পিপিই তৈরির কাজ চলমান, সেগুলো চালু রাখা যাবে। তবে শ্রমিকদের যথাযাথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। কিন্তু একই দিন বিকেএমইএ ফের কারখানা বন্ধ রাখার জন্য ‘নির্দেশনা’ জারি করে।
২৬ মার্চ সরকারি ছুটি শেষে গতকাল আশুলিয়াসহ শিল্পাঞ্চলে কিছু কারখানা (করোনা ইস্যুতে সরকার ঘোষিত বিশেষ ছুটি কারখানার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়) চালু করা হলেও ছুটির দাবিতে শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করেন। বিজিএমইএর পরিচালক রেজওয়ান সেলিম ইত্তেফাককে বলেন, ‘আশুলিয়া এলাকায় কিছু কারখানা খোলা হলেও শ্রমিকরা বের হয়ে আসায় দুপুরের পর ছুটি দিতে হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে পড়ে পিপিই তৈরি করা গার্মেন্টস কারখানাও। তিনি বলেন, যখন শ্রমিকরা দেখছেন, তার পাশের কয়েকটি কারখানায় ছুটি দেওয়া হয়েছে। তখন তারা কাজ করতে চাননি। আগামীকালও (আজ রবিবার) হয়তো বন্ধ করে দিতে হবে।’
বিকেএমইএর সিনিয়র সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম ইত্তেফাককে বলেন, নারায়ণগঞ্জ এলাকায়ও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। যেসব কারখানার হাতে কাজ রয়েছে, এ পরিস্থিতিতে তারা কিছুটা সমস্যায় পড়বেন বলে জানান তিনি।