স্বাধীনতা কাপ ফুটবল চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংসের সব খেলোয়াড়-কোচ ছুটিতে গেছেন। অনেকেই বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ফাইনাল জয় করে সেখান থেকেই বাড়ি ফেরার গাড়ি ধরেছেন। আবার কেউ বিমানবন্দরে ছুটছেন, প্লেনের সিটবেল্ট বেঁধেছেন। ব্রাজিলীয়ান মারকোস, কোষ্টারিকার ড্যানিয়েল কলিন্দ্রেস বুধবার রাতেই দেশ ছাড়েন। শুধু উজবেকিস্তানের বখতিয়ার আজ ঢাকা ছাড়বেন। এই বখতিয়ার কাতারে জাতীয় দলের ম্যাচ খেলে ঢাকায় এসেই ফাইনাল খেলে দলকে চ্যাম্পিয়ন করে দিয়েছেন। ক্লান্তি পেছনে ঠেলে দিয়ে দলের জন্য লড়াই করলেন বখতিয়ার।
বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় গড়ে উঠা ফুটবল ক্যাম্প এখন ফাঁকা। কোনো খেলোয়াড় মাঠ থেকে ফেরেননি। সবাইকে ছুটি দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে নতুন বছর অনুশীলন শুরু হবে। সব খেলোয়াড়কে প্রথম সপ্তাহে ফিরতে বলা হয়েছে। জানিয়েছেন দলের সভাপতি ইমরুল হাসান।
ফেডারেশন কাপ ফুটবলের রানার্সআপ হয়েছিল বসুন্ধরা। অল্পের জন্য আবাহনীর কাছে হেরে সেই ট্রফিটা জিততে পারেনি। ট্রফির চেয়ে আফসোস আছে এএফসি কাপে খেলতে না পারার। বিশেষ করে দলের গোলকিপার আনিসুর রহমান জিকোর মনে কষ্টটা বেশি। তার দলের স্বপ্ন ছিল এবার আন্তর্জাতিক ক্লাব ফুটবলের দরজায় প্রবেশ করবে। কিন্তু সেটা হয়নি। এক মাসের ব্যবধানে ট্রফি জয়ের গৌরব তুলে নিয়েছে। প্রথমবার বড় দল গড়ে স্বাধীনতা কাপ ফুটবলের ট্রফি বসুন্ধরার শোকেসে শোভা পাচ্ছে। ছুটি কাটিয়ে ফিরলে সংবর্ধনা দেওয়া হবে, দলের জন্য বোনাস ঘোষণা করে তুলে দেওয়া হবে। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার রাতেই গোলদাতা মারকোস এবং মতিন মিয়াকে অর্থ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে এবং গোলের জন্য সহযোগিতা করায় ইমন বাবুকেও অর্থ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। মতিন মিয়া বললেন, ‘আমি চেঞ্জিংয়ে খেললাম। কিন্তু আমার লক্ষ্য হচ্ছে যখনই মাঠে নামি, আমি যদি ৫ মিনিটও খেলি তাহলেও হান্ড্রেড পারসেন্ট দিয়ে খেলব।’ দর্শনীয় গোল করেছিলেন ব্রাজিলের মারকোস। ফাইনালের সেরা খেলোয়াড় মারকোস বলেন, ‘ওই ধরনের গোল করার জন্য আমি অনেক বেশি অনুশীলন করেছি। আত্মবিশ্বাস ছিল মাঠে নেমে একটা চেষ্টা করব। কাজ হয়ে গেছে।’
ফুটবলার এবং কোচ বড়দিনের ছুটি কাটাতে গেছেন। স্প্যানিশ কোচ অস্কার ব্রুজেন আগেই জানিয়ে ছিলেন তিনি ২৭ ডিসেম্বর দেশে ফিরে বড়দিন পালন করবেন। জানিয়ে গেছেন ঢাকায় ফিরে লিগের প্রস্তুতির জন্য নতুন পরিকল্পনা করবেন। বসুন্ধরার অধিনায়ক কোস্টারিকার কলিন্দ্রেস জানিয়ে গেছেন বিদেশের মাটিতে এটা তার প্রথম সাফল্য। টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় বসুন্ধরার গোলকিপার আনিসুর রহমান জিকে কোয়ার্টার ফাইনাল এবং সেমিফাইনালে টাইব্রেকিংয়ে জিতিয়েছেন। দারুণ সব গোল আটকে দিয়েছেন। নিজেও গোল করেছেন সেমিফাইনালের টাইব্রেকিংয়ে। ফাইনালের ম্যাচটা যখন ১-১ গোল থেকে অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে গেল। মতিন মিয়া গোল করে ২-১ ব্যবধান গড়লেন। সেই স্কোর লাইনেই বসুন্ধরার ট্রফি জয় নিশ্চিত হয়। টাইব্রেকিংয়ে যেতে হয়নি। জিকো বলছিলেন মনে করেছিলাম এবারো টাইব্রেকারে গড়াবে। আমি ঠেকাব। গোল করব। ফাইনাল জিতব। হলো না।