অর্থবছরের আট মাসে অর্থ ছাড় প্রায় ১৪ শতাংশ কমেছে

উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থ ছাড়ে ধীরগতি

উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থ ছাড় ও নতুন প্রকল্পে অর্থায়নে ধীরগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশ্ব জুড়ে মহামারি আকারে করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) ছড়িয়ে পড়ায় এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে জানা যায়, চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় অর্থ ছাড় প্রায় ১৪ শতাংশ কমেছে। করোনার প্রভাবে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পে ধীরগতি এর বড়ো কারণ বলে মনে করছেন ইআরডির কর্মকর্তারা। ইআরডির হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে মোট বৈদেশিক সহায়তার অর্থ ছাড় হয়েছে ৩৪৮ কোটি ৬৩ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে ছাড় হয়েছিল প্রায় ৪০৭ কোটি ৯৬ ডলার। আলোচ্য সময়ে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে নতুন প্রকল্পে প্রতিশ্রুতি আদায়ের পরিমাণ আগের সময়ের তুলনায় অর্ধেকে নেমেছে।

করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের আগে থেকেই বৈদেশিক অর্থ ব্যয়ে ধীরগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এজন্য বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিবি) থেকে বৈদেশিক সহায়তার বড়ো অংশ কাটছাঁট করে সংশোধিত এডিপি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গত এনইসি সভায় ১ লাখ ৯২ হাজার ৯২১ কোটি টাকায় সংশোধিত এডিপি (আরএডিপি) অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অর্থবছরের শুরুতে এডিপির আকার ধরা হয়েছিল ২ লাখ ২ হাজার ৭২১ কোটি টাকা। অর্থাত্ আরএডিপিতে বরাদ্দ কমল ৯ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। এর পুরোটাই বৈদেশিক সহায়তার অংশ।

ইআরডির কর্মকর্তারা বলেন, করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়লে বাংলাদেশে কর্মরত অনেক চীনা নাগরিক কাজে ফিরতে পারেনি। চীনসহ বিদেশি বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে পরিচালিত প্রকল্পগুলোর অগ্রগতিতে ব্যাঘাত ঘটেছে। কাজে অগ্রগতি কম হওয়ার প্রভাবও পড়েছে বৈদেশিক সহায়তার অর্থ ছাড়ে। চলতি অর্থবছরের জন্য ৭০০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ ছাড়ের লক্ষ্যমাত্রা গ্রহণ করেছে সরকার। ইআরডির তথ্যানুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে বৈদেশিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি আদায় হয়েছে মাত্র ৩২৫ কোটি ৫৯ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে প্রতিশ্রুতি আদায় হয়েছিল প্রায় ৬১৭ কোটি ডলারের। উল্লেখ্য, ইতিমধ্যে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) করোনা মোকাবিলায় ৩ লাখ ডলার অনুদান দিতে সম্মত হয়েছে। সরকারের পক্ষ হতেও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), বিশ্ব ব্যাংকের কাছে সহায়তা চাওয়া হয়েছে।