বিশ্ব স্তম্ভিত হঠাত্ চারদিকে থমথমে পরিবেশ। স্যোশাল মিডিয়া থেকে শুরু করে টেলিভিশন, পত্রিকার শিরোনামগুলোর দিকে নজর সবার। নতুন করে আবার কেউ কি আক্রান্ত হলো, কেউ কি মৃত্যুবরণ করলো, কেন এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিষেধক আবিষ্কার করতে পারছে না—এধরনের নানা প্রশ্ন বিশ্ববাসীর মনে। সময় অতিবাহিত হচ্ছে ঠিকই তবে স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে পারছেন না কেউই। মোবাইল ফোনে বিশ্বের নানা প্রান্তের আত্মীয়স্বজনদের কাছে বারবার যোগাযোগ করছেন স্বজনরা। কেমন আছেন তারা। নিত্যদিনের কাজ শেষে পরিবারের সবাই এক জায়গায় বসে আলোচনা করছেন। বিশ্বের আলোচনার একমাত্র বিষয় কোভিড-১৯ যা নোভেল করোনা ভাইরাস নামে পরিচিত। একটি ভাইরাস যার কোনো আকৃতি পর্যন্ত আমরা জানি না, যা হয়রান করে ছাড়ছে বিশ্ববাসীকে। এই ভাইরাসের কোনো প্রতিষেধক বা ওষুধ এখন পর্যন্ত কোনো দেশের বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করতে সক্ষম হননি। সচেতনতাই এই ভাইরাস থেকে মুক্তি দেওয়ার একমাত্র উপায়; কিন্তু বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশে সচেতনতার দিকে উদাসীনতা দেখাচ্ছে জনগণ। স্যোশাল মিডিয়া, সংবাদমাধ্যম, লিফলেট ও বিভিন্ন প্রচার-প্রচারণা করেও সচেতনতা বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। বিদেশফেরতদের কোয়ারেন্টাইনে থাকার অনুরোধ করা সত্ত্বেও তারা তা মানছে না। বোকামি করে নিজে, নিজের পরিবারসহ দেশবাসীকে বিপদে ফেলছে তারা। ভাইরাসটির সংক্রমণ এড়ানোর জন্য দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি অফিস-আদালত, গণজমায়েত, গণপরিবহন ও সারাদেশে লকডাউন করে দেওয়া হয়েছে। সামাজিক দূরত্ব বজায়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে।
বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। অন্যান্য উন্নত দেশের মতো বাংলাদেশ লকডাউন করে দিলে দেশের সাধারণ মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত, দিনমজুররা কীভাবে দিনাতিপাত করবে? ভাইরাসের বদলে তখন মানুষ না খেয়ে মরবে। অন্যান্য উন্নত দেশের মতো ঘরে ঘরে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি, ঘর ভাড়াসহ অন্যান্য দ্রব্যাদি বাংলাদেশ সরকারের একার পক্ষে যোগান দেওয়া সম্ভব না। তারপরও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনা প্রতিরোধে ঢাকায় ছয়টি হাসপাতাল প্রস্তুত করেছেন, আরো ৩টি প্রস্তুত করা হচ্ছে। এছাড়াও ভূমিহীন, গৃহহীনদের জন্য ছয় মাসের খাদ্য ও আর্থিক সহায়তা ফ্রি, নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ১০ টাকা কেজি চাল, বিনা মূল্যে ওষুধ ও চিকিত্সাসেবা, রপ্তানিমুখী শিল্পের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন পরিশোধের জন্য ৫০০ কোটি টাকার প্রণোদনা দিয়েছেন যা স্বস্তির আশ্বাস। তবে এ সেবাসমূহ তৃণমূল নেতারা যথাযথ বণ্টন করবেন কি না তা নিয়ে সন্দিহান।
যেহেতু এটি একটি সংক্রামক ব্যাধি সুতরাং সচেতনতার দায়িত্ব আমাদের প্রত্যেকের। এই সময় যারা সমাজের বিত্তবান তারা তাদের আশপাশের দুস্থ গরিব মানুষকে সাধ্যমতো সাহায্য করতে পারেন। পেশাদারিত্ব ছেড়ে আমরা সবাই একটু মানবিক হলে সরকার বা দেশের মানুষ অনেক এগিয়ে যাবে। গুটিকয়েক বিত্তবানরাই শুধু নয় যাদের নিজেদের ভরণপোষণ শেষে যতটুকু বাকি থাকে ততটুকুই নিয়ে গরিবদের পাশে দাঁড়ানো উচিত। করোনার ভয়াবহতা সম্পর্কে বাংলাদেশের সবাই হয়তো এখনো বুঝে উঠতে পারেনি। এসময় তরুণ সমাজের দায়িত্ব জনসাধারণের মধ্যে করোনার ভয়াবহতা ও ভাইরাসটি রোধে এখন কী করণীয় সে সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করা। দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে একযোগে সবাই সচেতনতার সঙ্গে আন্তরিক ও মানবিকতার পরিচয় দিলে প্রাকৃতিক অভিশাপ করোনামুক্ত হবে দেশ, বিশ্ব।
n লেখক : শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়