প্রায় ৭০০ নদ-নদীর দেশ বাংলাদেশ। তারপর অজস্র খাল-বিল, হাওর-বাঁওড়। পাকিস্তানি মিলিটারিরা নদীমাতৃক বাংলাদেশে এসে সুবিধা করতে পারেনি। মুক্তিযুদ্ধের গতি-প্রকৃতি ও কলাকৌশল ঠিক করতে নদ-নদীগুলো ব্যাপক ভূমিকা রেখেছে। চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দরসহ চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দরে মুক্তিযোদ্ধা নৌ-কমান্ডোদের পরিচালিত ‘অপারেশন জ্যাকপট’ পাকিস্তানি বাহিনীর নৌশক্তি ভেঙে দিয়েছিল। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরক্ষা কৌশলেও ভূমিকা রেখেছে নদী। নদ-নদীগুলো হয়ে উঠেছিল তাঁদের রক্ষাবর্ম। যুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধারা বিভিন্ন সময় নদ-নদীতে আশ্রয় নিয়ে অনায়াসে নিজের জীবন বাঁচিয়েছেন। স্বাধীনতাযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ ভাষণে বলেছিলেন, ‘আমরা ভাতে মারবো, আমরা পানিতে মারবো...’। স্বাধীনতাযুদ্ধে দক্ষিণাঞ্চলের পদ্মা, ভৈরব, বেতনা, রূপসা, কপোতাক্ষ, গড়াই, মধুমতি, কর্ণফুলি; উত্তরাঞ্চলের আত্রাই, করতোয়া, তিস্তা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, খোয়াই, সুরমা, কুশিয়ারার ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। প্রকৃতির ভূমিকাও ছিল বিশাল। গ্রীষ্ম, বর্ষা, শীত—এমন বিচিত্র ঋতুর প্রকৃতি ও পরিবেশ মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য যতটা সহনীয় ছিল, ততটাই অসহ্য ছিল পাকিস্তানি বাহিনীর জন্য। এ দেশের গাছগুলো মুক্তিযুদ্ধের সময় ছায়া দিয়েছে, আশ্রয় দিয়েছে। যশোর রোডের গাছগুলো এখনো মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় যশোর-বেনাপোল সড়ক দিয়ে লাখ লাখ শরণার্থী ভারতে আশ্রয় নেন। শরণার্থী শিবিরগুলোর দুর্দশা ও যশোর রোডের স্মৃতি নিয়ে মার্কিন কবি অ্যালেন গিন্সবার্গ লিখেছেন তাঁর অমর কবিতা ‘সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড’। তাই দেশের নদ-নদী ও প্রকৃতি রক্ষায় সবাইকে আরো সচেতন হতে হবে।
সাধন সরকার
৫/এ নারিন্দা লেন, নারিন্দা, সূত্রাপুর, ঢাকা ১১০০