কাকিয়াছড়া ব্রিজে গর্ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে কাকিয়াছড়া ব্রিজে গর্ত হয়ে যান চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ যান চলাচলসহ শিক্ষার্থী ও পথচারীরা দুর্ভোগে পড়েছেন। এলজিইডির আওতাধীন ব্রিজটির ভাঙা অংশ সংস্কার না হওয়ায় যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার পৌর এলাকায় চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিটিআরআই) থেকে পার্শ্ববর্তী কালীঘাট ইউনিয়নের ফুলছড়া হয়ে শ্রীমঙ্গল শহর ও রাজঘাট যাওয়ার পথে কাকিয়াছড়ার ওপরে পাকা ব্রিজটি নির্মিত। স্থানীয়রা জানান, ছয়/সাত মাস ধরে ব্রিজটির এ অবস্থা। দুর্ঘটনা এড়াতে এখানে বিপদজনক কোনো চিহ্ন বা গতিরোধক ব্যবহার করা হচ্ছে না। ব্রিজের এক পাশের কোনায় খুব ছোটো একটি সাইনবোর্ডে ছোটো ছোটো অক্ষরে ‘ঝুঁকিপূর্ণ কালভার্ট’ লেখা থাকলেও তা সহজেই নজরে পড়ছে না কারো।

স্থানীয় বাসিন্দা বাদল বাকতি, রাজু চাষা, জয়রাম গড়, রনজিত চাষা বলেন, প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে চা-বাগানের ট্রাক্টর, ভ্যান, জীপ, কারসহ অসংখ্য রিকশা, বাইসাইকেল, মোটরসাইকেল, সিএনজি, অটোরিকশা মালামাল ও যাত্রী নিয়ে চলাচল করে। প্রায়ই যাত্রীবাহী এসব যানবাহন ঐ ভাঙা অংশে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। যানচালক আকবর মিয়া, রাজেশ ঋষি, মনির হোসেন জানান, রাস্তা থেকে ব্রিজটি অনেক উঁচুতে থাকায় ঐ ভাঙা অংশটি সহজে কারো নজরে আসে না। ফলে দুর্ঘটনার সম্মুখীন হতে হয়। বিটিআরআই উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সায়েক আহমেদ বলেন, বিশেষ করে স্কুল ছুটির পর একসঙ্গে যাওয়ার সময় শিক্ষার্থীদের ঝুঁকিতে পড়তে হয়।

কালীঘাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রানেশ গোয়ালা জানান, ব্রিজটিতে দুর্ঘটনা এড়াতে তিনি ব্যক্তিগতভাবে ভাঙা অংশে একটি সিমেন্টের স্লেপ্ট বসিয়ে ছিলেন, সেটিও এখন ভেঙে গেছে। ব্রিজ নির্মাণ বা মেরামত বিষয়ে তিনি বলেন, এখানে ব্রিজ নির্মাণের মতো এত বড়ো ফান্ড ইউনিয়ন অফিসে নেই। তবে ব্রিজটি নতুন করে নির্মাণের জন্য উপজেলা এলজিইডি কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। বাকিটুকু তাদের অগ্রগতির ওপরে নির্ভর করছে। শ্রীমঙ্গল উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী সঞ্জয় মোহন সরকার বলেন, বিষয়টি তাদের নজরে আছে। এ ব্যাপারে খুব দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।