খুলনায় করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে সংকটে থাকা নিম্ন আয়ের মানুষদের মধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে চালসহ পণ্যসামগ্রী বিতরণ শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ‘মানবিক সহায়তা কর্মসূচি’র আওতায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন গত শনিবার গভীর রাতে বটিয়াঘাটা উপজেলার জলমা ইউনিয়নের হতদরিদ্র, অসহায়, শ্রমিক, দিনমজুর ও কর্মসংকটে থাকা ১০০টি পরিবারে চাল, ডাল, তেল, আলু, সাবানসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন। বিতরণকৃত সামগ্রীর মধ্যে ছিল প্রত্যেক পরিবারের জন্য ১০ কেজি চাল, ১ কেজি ডাল, ২ কেজি আলু, ১ কেজি তেল, ১ কেজি লবণ, ১ কেজি চিড়া, ১ কেজি গুড়, ২টি হাত ধোওয়ার সাবান ও ২ প্যাকেট বিস্কুট।
এছাড়া গত শনিবার বিকালে ডুমুরিয়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলার আটলিয়া, মাগুরাঘোনা ও রুদাঘরা ইউনিয়নের ৩৯টি হতদরিদ্র পরিবারের মধ্যে চালসহ ত্রাণের পণ্যসামগ্রী ও গতকাল রবিবার কয়রা উপজেলার ৩০০ অসহায় ও শ্রমজীবী পরিবারের মধ্যে চালসহ ত্রাণের পণ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। এদিকে, গতকাল রবিবার বিকালে নগরীর ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের ৩০ জন হতদরিদ্র ও স্বল্প আয়ের মানুষের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ‘মানবিক সহায়তা কর্মসূচি’র উদ্বোধন করেন সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক। তবে জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, সরকারিভাবে যে ত্রাণসামগ্রী দেওয়া হচ্ছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল।
ডুমুরিয়া উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, গতকাল রবিবার উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের ২ মেট্রিক টন করে চাল সরকারি গোডাউন থেকে উত্তোলনের ছাড়পত্র (ডিও) দেওয়া হয়েছে। রবিবার বিকাল থেকেই চেয়ারম্যানরা স্ব স্ব ইউনিয়নের তালিকাভুক্ত হতদরিদ্র পরিবারের মধ্যে এই চাল বিতরণ শুরু করেছে।
রুদাঘরা ইউনিয়নের বাসিন্দা মফিজুর রহমান বলেন, দলীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বররা যখন তালিকা তৈরি করে সেই তালিকা সঠিক হয় না। দলীয় লোকজন এ সুযোগটি নেবে। আমাদের ইউনিয়নেও সেই অবস্থাই হয়েছে। কিন্তু আমাদের কিছু বলার নেই।
এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়রা ও ডুমুরিয়া উপজেলার দুই জন ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, সরকারিভাবে যে ত্রাণসামগ্রী দেওয়া হচ্ছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। কারণ হিসেবে তারা বলেন, হতদরিদ্রের সংখ্যা অনেক বেশি। আমরা কার নাম লিখব আর কার নাম বাদ দেব, তাই নিয়েই বড়ো চিন্তায় আছি। ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছাম্মত শাহনাজ বেগম বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ডুমুরিয়া উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের ১ হাজার ৪০০ দরিদ্র পরিবারের জন্য ৩০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ১ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে এগুলো হতদরিদ্র পরিবারের মধ্যে বিতরণ শুরু হয়েছে।উল্লেখ, খুলনা মহানগরীসহ জেলার ৯ উপজেলার হতদরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য সরকারিভাবে ২৭২ মেট্রিক টন চাল ও ৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।