করোনা ভাইরাসে পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে :বরিস জনসন

করোনা ভাইরাসের সংকট ভালোর দিকে যাওয়ার আগেই পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে বলে সতর্ক করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। করোনায় আক্রান্ত ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী শনিবার দেশটির প্রতিটি পরিবারকে চিঠি পাঠিয়ে এই বার্তা দিয়েছেন। ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে প্রয়োজনে          কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি। এদিকে দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান সতর্ক করে বলেছেন, করোনার বিস্তার যথাযথভাবে ঠেকাতে আগামী জুন মাস পর্যন্ত ব্রিটেনে অবশ্যই ‘টোটাল লকডাউন’ থাকতে হবে। একই সঙ্গে সামাজিক দূরত্ব আরো কয়েক মাস পর্যন্ত বজায় রাখতে হবে। খবর :বিবিসি ও ডেইলি মেইলের।

প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের স্বাস্থ্য পরীক্ষায় কোভিড-১৯ ধরা পড়ার পর থেকে তিনি সেলফ আইসোলেশনে রয়েছেন। জনসনের চিঠির সঙ্গে প্রত্যেক ব্রিটিশ নাগরিককে, বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত সরকারি নিয়মকানুন এবং স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্যসংবলিত লিফলেটও দেওয়া হয়েছে। সরকারি পরামর্শের স্পষ্টতা নিয়ে সমালোচনার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ব্রিটেনে শনিবার আরো ২৬০ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ায় দেশটিতে মৃতের সংখ্যা এখন ১ হাজার ১৯ জনে দাঁড়িয়েছে।

ব্রিটেনের প্রায় ৩ কোটি পরিবারকে ঐ চিঠি পাঠাতে খরচ হয়েছে প্রায় ৫৮ লাখ পাউন্ড। চিঠিতে জনসন লিখেছেন :শুরু থেকেই আমরা সঠিক সময়ে সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করেছি। বৈজ্ঞানিক ও চিকিত্সা পরামর্শে আমাদের কিছু করতে বললে, আমরা তা অবশ্যই করব। আমরা জানি, পরিস্থিতি ভালো হওয়ার আগে আরো খারাপের দিকে যাবে। তবে আমরা সঠিক প্রস্তুতি নিচ্ছি এবং আমরা সবাই নিয়ম যত বেশি মেনে চলব, তত কম জীবন হারাব এবং তত তাড়াতাড়ি জীবন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে পারে। তিনি চিকিত্সক, নার্স এবং অন্যান্য সেবাদানকারীর পাশাপাশি সেইসব লাখ লাখ স্বেচ্ছাসেবকের কাজের প্রশংসা করেছেন।

এদিকে ব্রিটেনের স্বাস্থ্য বিভাগের একজন প্রধান প্রফেসর নিল ফারগুসন বলেছেন, করোনা ভাইরাসের বিস্তার যথাযথভাবে ঠেকাতে ব্রিটেনের সব মানুষকে জুন পর্যন্ত ঘরে থাকতে হতে পারে। একই সঙ্গে লকডাউন তুলে দেওয়ার পরও আগামী অক্টোবর পর্যন্ত সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলতে হবে। দ্য সানডে টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে তিনি বলেন, ব্রিটেনের নাগরিকদের পুরো তিন মাস ঘরে থাকা জরুরি। লকডাউন তুলে নেওয়ার পর স্কুলসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আরো কয়েক মাস বন্ধ থাকবে। মানুষদের ঘরে থেকে কাজ করতে বলা হবে।

ব্রিটেনে করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রথম চিকিত্সকের মৃত্যু

ব্রিটেনে করোনা ভাইরাসে প্রথম একজন কর্মরত চিকিত্সক মারা গেছেন। তিনি অঙ্গপ্রত্যঙ্গ প্রতিস্থাপনবিষয়ক কনসালট্যান্ট ছিলেন। সার্জন ডা. আদিল এল তায়ার সৌদি আরব ও সুদানের পাশাপাশি লন্ডনের সেইন্ট মেরিস এবং সেইন্ট জর্জ’স হাসপাতালে কাজ করেছেন। ডা. তায়ারের শরীরে মধ্য মার্চে উপসর্গ দেখা দিতে শুরু করে। তিনি গত ২০ মার্চ হাসপাতালে ভর্তি হন। তিনি ২৫ মার্চ পশ্চিম লন্ডনের ওয়েস্ট মিডলসেক্স হাসপাতালে মারা যান।