যতটুকু সম্ভব সতর্ক থাকার চেষ্টা করছি পুরো পরিবার মিলে। বাসা থেকে শুধু নয়, আমাদের অ্যাপার্টমেন্ট বিল্ডিং থেকে খুব জরুরি দরকার ছাড়া কেউই বের হচ্ছেন না। কোনো অতিথিও আসবেন না আশা করি। প্রবেশ দরজায় তালা মেরে রাখা হয়েছে। পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে বিশেষভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পুরো প্রাঙ্গণ যেন পরিষ্কার রাখা হয়। দরজার হাতল, সিঁড়ি, লিফট দিনে বেশ কয়েকবার দূষণমুক্ত রাখা হচ্ছে। বাসার ভেতরে আমরা অল্পসংখ্যক মানুষ, তবু সচেতনভাবে পরস্পর থেকে দূরত্ব বজায় রাখছি। দিনে কতবার যে হাত ধোয়া হয় হিসাব করা হয় না। সময়টা আলস্যে ঘরে শুয়ে-বসে কাটানোর নয়। কেউই মনে করছে না অবসর বা ছুটি চলছে। প্রথম কয়েকটা দিন মন দিয়ে ছবি এঁকেছি। তারপর বন্দি থাকার অনুভব অস্থিরতা এনে দিয়েছে। কোনোকিছু খুব মনোযোগ দিয়ে করা যাচ্ছে না। পড়া, ছবি আঁকা, লেখালেখি, সিনেমা দেখা, গান শোনা, যখন যেটা করতে ভালো লাগছে করছি। হঠাত্ মনে হলো, ঘর এলোমেলো লাগছে, ব্যস দেখা গেল তাতেই ব্যস্ত হয়ে গেলাম। এর মধ্যে একদিন মনে হলো এত দিনের সংসার, যে বাসায় বসবাস করি তার অনেককিছু কখনোই মনোযোগ দিয়ে দেখা হয়ে ওঠেনি। মনকে এখন পরিকল্পনা দিয়ে বাঁধার যাবে না বা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে তেমন নয়। বলেছি, অনেককিছু নিয়ে ব্যস্ত থাকার চেষ্টা চলছে। গড়িয়ে যাচ্ছে দিন। কোনোকিছু পুরো মনোযোগ দিয়ে করা যাচ্ছে না।
করোনা আতঙ্কের এই সময়ে অবসর সময় পার ও সচেতনতা প্রসঙ্গে নাট্যব্যক্তিত্ব আফজাল হোসেন