প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস আতঙ্কেও যেন থেমে নেই দুর্নীতি। বরং সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তড়িঘড়ি করে সিরাজগঞ্জের তাড়াশে বিনোদপুর-খড়খড়িয়া রাস্তা নির্মাণে অতি নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগে উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আজ সোমবার (৩০মার্চ) কাজ বন্ধ করে দিয়েছে প্রকৌশল অধিদপ্তর।
এদিকে সম্প্রতি করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবে সামাজিক নিরাপত্তা বজায় না রেখে প্রায় অর্ধশতাধিক নির্মাণ শ্রমিক একই স্থানে কাজ করায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এলাকার সচেতন মহল।
উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রকৌশল অধিদপ্তরের ৯৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ১১’শ ৪৪ মিটার ঐ রাস্তার নির্মাণ কাজের দায়িত্ব পান জালাল কনস্ট্রাকশন। পরে কাজটি কিনে নেন পাঠান কনস্ট্রাকশন।
সরেজমিনে দেখা যায়, ইতিমধ্যে বিনোদপুর-খড়খড়িয়া রাস্তার প্রায় ৭০ ভাগ অতি নিম্নমানের ইটের খোয়া ফেলা হয়েছে। বাকি ৩০ ভাগের জন্যও ট্রাকে করে একই রকম খোয়া আনা হচ্ছে। আর খোয়ার আকার দেখে মনে হয় যেন একটা ইট ৩-৪ টুকরা করেই রাস্তায় ফেলা হচ্ছে। এছাড়া সেখানে নিরাপদ দূরত্ব না রেখেই দলবেঁধে কাজ করছেন অনেক শ্রমিক।
স্থানীয় বাসিন্দা সুলতান মাহমুদ, রমজান আলী, আবদুস সবুর, কাজেম উদ্দিন, শাজাহান মিঞা, রহিম মন্ডল ও আব্দুর রশিদ অভিযোগ করে বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে সাংবাদিকসহ সাধারণ লোকজন খুব একটা ঘর থেকে বাইর হচ্ছেন না। সেই সুযোগে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে অধিক সংখ্যক শ্রমিক লাগিয়ে তড়িঘড়ি রাস্তার কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টায় মরিয়া হয়ে উঠেছেন।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, রাস্তায় খোয়া দেওয়ার আগে বেড তৈরিতেও ব্যাপক অনিয়ম দেখেছেন তারা। নিয়মানুযায়ী খোয়া, বালু দিয়ে ২ ফুট বেড তৈরির কথা। বস্তুত তা না করে নামমাত্র বালু আর পলি মাটি দিয়ে ১-১.৫ ফুটের মতো বেড করা হয়েছে।
এদিকে নির্মাণাধীন রাস্তায় এ প্রতিবেদকের সংবাদ সংগ্রহের কথা জেনে রাস্তার কাজ পরিদর্শনে যান উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সার্ভেয়ার নাজমুল হাসান। তিনি তৎক্ষণাৎ রাস্তার নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেন। একই সাথে মন্তব্য করেন, পুরো উপজেলায় এত নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে আর একটি রাস্তাও তৈরি হয় নাই।
আরো পড়ুন: যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিন জনগণের পাশেই থাকব: নিক্সন চৌধুরী
অভিযোগ অস্বীকার করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পাঠান কনস্ট্রাকশন দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার মমিন পাঠান বলেন, সামান্য কিছু নিম্নমানের ইটের খোয়া দেওয়া হয়েছিলো। তা সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা প্রকৌশলী বাবলু মিঞা বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বিনোদপুর-খড়খড়িয়া রাস্তা থেকে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। অন্যথায় নিয়মানুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ইত্তেফাক/এএএম