ফসল ঘরে তোলার অপেক্ষায় কৃষক
নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা
নাগেশ্বরীতে নদী তীরের অনাবাদী জমিতে সূর্যমুখীর পরীক্ষামূলক চাষাবাদে আশার সঞ্চার ঘটেছে কৃষকের মধ্যে। উপজেলার ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমার, ফুলকুমার নদ, গঙ্গাধর ও শংকোষ নদী তীরবর্তী চরাঞ্চলের অনেক জমিতে এর চাষ হচ্ছে। এবার কৃষি অফিসের প্রণোদনায় বীজ ও কীটনাশকে হাইব্রিড জাতের, হাইসান জাতের সূর্যমুখীর চাষ হয়েছে সেখানকার ৪০ বিঘা জমিতে।
দেখা গেছে, অনুকূল আবহাওয়া ও নিয়মিত পরিচর্যায় ফলনও হয়েছে ভালো। এরই মধ্যে হলুদ ফুলে ছেয়ে গেছে মাঠ। এসেছে কালো বীজ। সবকিছু ঠিক থাকলে মাসখানেকের মধ্যে ঘরে উঠবে প্রত্যাশিত ফসল। নুনখাওয়া ইউনিয়নের চর সারিসুরি, বেপারীর চর, বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের গাছপাড়ী ওয়াবদা এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, কৃষকরা ভালো ফলনের আশা করছেন। কয়েকদিন পরই ঘরে ফসল তুলবেন।
নুনখাওয়া ইউনিয়নের সারিসুরি গ্রামের আতাউর রহমান, নাজির রহমান, বামনডাঙ্গার চাষি গোলাম মোস্তফা জানান, এবারেই তারা প্রথমবারের মতো তাদের ১৮ বিঘা জমিতে কৃষি অফিসের প্রণোদনায় সূর্যমুখীর চাষ করেছেন। বিঘাপ্রতি তাদের খরচ হয়েছে প্রায় ৩-৪ হাজার টাকা। উত্পাদন হবে ৭-৮ মণ। এতে উত্পাদন খরচ বাদে তাদের লাভ হবে বিঘাপ্রতি প্রায় ৯ হাজার ৬০০ থেকে ১০ হাজার ৪০০ টাকা। তাছাড়া পরিশ্রম অনেক কম।
উপজেলা সিনিয়র কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা শামসুজ্জামান বলেন, এবারেই প্রথম পরীক্ষামূলক সূর্যমুখীর চাষাবাদ করা হয়েছে। ফলনও আশানুরুপ। উত্পাদিত বীজ আমরা সরকারিভাবে ১৮০০ টাকা মণ দরে কিনে নেব। এতে উত্পাদন খরচের চেয়ে তাদের প্রায় তিনগুণ লাভ হবে। তাছাড়া বীজ বাজারজাতকরণে কৃষকের কোনো ভোগান্তি নেই। আগামীতে উপজেলার চরাঞ্চলের পতিত জমিগুলোকে সূর্যমুখী চাষের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।