লকডাউনে গুরুত্ব না দেওয়ায় নিউ ইয়র্কে ১৫ বাংলাদেশির মৃত্যু

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ১০ দিনে কমপক্ষে ১৫ জন প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ছয় জন নারী। এত প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যুর ঘটনা নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশি কম্যুনিটিতে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন নিউ ইয়র্ক রাজ্যের গভর্নর অ্যান্ড্রু ক্যুমো।

সেফেস্ট নামে একটি সামাজিক সংগঠন এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের নানা সংগঠনের বরাত দিয়ে নিউ ইয়র্কের    সাংবাদিক লাভলু আনসার বিবিসি বাংলাকে বলেন, গত ১০ দিনে নিউ ইয়র্ক সিটিতে কমপক্ষে ১৫ জন প্রবাসী বাংলাদেশি মারা গেছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশি অধ্যুষিত জ্যাকসন হাইটস এলাকার কাছে এম্?হার্স্ট নামে একটি হাসপাতালে গত সপ্তাহে এক দিনে ২৩ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে চার জন ছিলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত। হাসপাতালে বেড এবং ভেন্টিলেটর মেশিন না থাকায় অনেক রোগী অপেক্ষারত অবস্থাতে বিনা চিকিত্সায় মারা গেছেন। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে নিউ ইয়র্ক স্টেট এবং বিশেষ করে নিউ ইয়র্ক শহর। সর্বশেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী এক নিউ ইয়র্ক সিটিতেই মারা গেছে ৭৮০ জন, আক্রান্তের সংখ্যা কমপক্ষে ৩৪ হাজার।

কেন এত বাংলাদেশি মারা গেল?

লাভলু অনসার বলছেন, নিউ ইয়র্কের পরিস্থিতি ভয়াবহ এবং শুধু বাংলাদেশি নয়, নিউ ইয়র্কে অন্য সব কম্যুনিটির লোকই মারা যাচ্ছে। তবে, তিনি বলেন, ১৯ মার্চ রাজ্যে লকডাউন ঘোষণার পর প্রথমদিকে বহু বাংলাদেশি তাকে তেমন গুরুত্ব দেননি। অনেক বাংলাদেশি তেমন গায়ে মাখেনি। জ্যাকসন হাইটস, জ্যামাইকার বাংলাদেশি গ্রোসারিগুলোর বাইরে তাদের আড্ডা মারতে দেখা গেছে। একসঙ্গে অনেক মানুষ দোকানে ঢুকে কেনাকাটা করেছেন। অনেকের মাঝেই সচেতনতা কম ছিল অথবা বিপদ বুঝতে পারেননি। তিনি বলেন, এখন দোকানগুলো এক জনের বেশি লোক ঢোকাচ্ছে না। ডাক্তাররাও জানালা দিয়ে রোগীর সঙ্গে কথা বলছেন।