জমিসংক্রান্ত বিরোধের কারণে প্রতিবেশী মোজাম হাজী নামে এক ব্যক্তিকে ফাঁসাতে ছেলে মাহবুব ৫ হাজার টাকায় ভ্যানচালক আব্দুল জলিলকে (৪৬) খুন করান। সদরের আমদই ইউনিয়নের সুন্দরপুর নয়াপাড়া গ্রামের ভ্যানচালক আব্দুল জলিলকে নির্মমভাবে গলা কেটে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুই দিনেই রহস্য উদ্ঘাটন করল পুলিশ।
এ ঘটনায় গতকাল সোমবার বিকালে জয়পুরহাট সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম মাহফুজের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে বাবু মণ্ডল নামে এক জন। জয়পুরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহরিয়ার হক জানান, বাবু মণ্ডল ছাড়া গ্রেফতারকৃত অন্য আসামিরা হলেন—ছেলে মাহবুব, ভাতিজা মিজানুর এবং অপর প্রতিবেশী দুলাল ও লিটন।
আমদই ইউনিয়নের তুলশীগঙ্গা নদীর ত্রিমোহনী ব্রিজের উত্তর পাশ থেকে গত শনিবার সন্ধ্যায় আব্দুল জলিলের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। আমদই ইউনিয়নের সুন্দরপুর নয়াপাড়া এলাকার ময়েন উদ্দিনের ছেলে ভ্যানচালক আব্দুল জলিল শুক্রবার বাড়ি থেকে ভ্যান নিয়ে বের হন। অনেক খোঁজাখুঁজির পর বাড়ি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে তুলশীগঙ্গা নদীর ত্রিমোহনী ব্রিজের উত্তর পাশে চাবি দেওয়া অবস্থায় একটি ভ্যান পড়ে থাকতে দেখা যায়। এর একটু দূরেই নদীর কিনারে আব্দুল জলিলের জবাই করা মরদেহ পাওয়া যায়।
হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে পারিবারিক যোগসূত্র রয়েছে এমনটা সন্দেহ করে অনুসন্ধান চালায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মিজানুর রহমান। এ ঘটনায় ছেলে মাহবুবকে আটক করার পর তার দেওয়া তথ্যমতে প্রতিবেশী বাবু মণ্ডলকে আটক করে পুলিশ। বাবু মণ্ডল জবাই করে হত্যার কথা স্বীকার করে। এ খুনের ঘটনায় সহযোগিতা করে ছেলে মাহবুব ছাড়াও ভাতিজা মিজানুর এবং অপর প্রতিবেশী দুলাল ও লিটন।
ভ্যানচালক খুনের ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছিল স্ত্রী সালেহা বেগম। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকু উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান ওসি শাহরিয়ার হক। আসামিদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
ইত্তেফাক/এমআর