নারায়ণগঞ্জে সেপটিক ট্যাংক বিস্ফোরণে শিশুর পর মায়ের মৃত্যু

নারায়নগঞ্জের বাবুরাইল এলাকায় একটি বাড়িতে সেপটিক ট্যাংক বিস্ফোরণে গত ২৭ মার্চ একটি শিশুর মৃত্যু হয়। ঐ ঘটনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মাও মারা গেছেন। মঙ্গলবার ভোরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। 

গত ২৭ মার্চ ভোরে সেপটিক ট্যাংক বিস্ফোরণে ৮ মাস বয়সী শিশু ঘটনাস্থলেই নিহত হয়।  এ ঘটনায় গুরতর আহত শিশুটির বাবা তোফাজ্জল হোসেন ও দুই ভাই-বোন এবং মাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মঙ্গলবার ভোরে শিশুটির মা ফেরদৌসি মারা যান।

আহত তোফাজ্জল হোসেনের খালাতো ভাই রাকিব উদ্দিন জানান, ‘গত ২৭ মার্চ ভোরে শহরের তোফাজ্জল হোসেনের বাড়িতে এই মর্মান্তিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তোফাজ্জল হোসেন (৫০) ও তার স্ত্রী ফেরদৌসী বেগম (৩০) তাদের তিন সন্তান হালিমা বেগম (১১) মোহাম্মদ হোসেন (৯) ও আট মাসের শিশু আহাম্মদকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। তিন সন্তান নিয়ে ফেরদৌসী ছিলেন এক রুমে আর তোফাজ্জল হোসেন ছিলেন পাশের রুমে। ভোর পৌনে পাঁচটার দিকে বিকট শব্দে বাড়ির সেপটিক ট্যাংক বিস্ফোরণ হলে দেয়াল ধসে পড়ে। এতে দেয়াল চাপা পড়ে পবিরারের পাঁচজনই গুরতর আহত হন। 

এলাকাবাসী এসে আহতদের উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ ১০০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আট মাস বয়সী শিশু আহাম্মদকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। অপর চারজনের অবস্থা গুরতর হওয়ায় সেখান থেকে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। আহতদের মধ্যে ফেরদৌসী বেগম ও তার দুই ছেলে মেয়েকে আইসিইউতে রাখা হয়েছিল। তাদের মধ্যে সোমবার দিনগত রাতে ফেরদৌসী বেগম মারা গেছেন। 

এ ঘটনায় স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, ওই এলাকার সড়কের নীচে গ্যাস পাইপের লিকেজ থেকেই তোফাজ্জল হোসেন বাড়ির সেপটিক ট্যাংকের বিস্ফোরণ হয়েছে। তাদের পাশের একটি বাড়ির সেপটিক ট্যাংকও বিস্ফোরণ হয়েছে তবে কেউ হতাহত হননি। এলাকার বাসিন্দা আবু তাহের হোসেন সময় জানান, এই গ্যাস পাইপ লিকেজের ব্যাপারে ইতিপূর্বে তিতাস কর্তৃপক্ষকে বেশ কয়েকবার জানানো হয়েছে। তবে তারা সেটি মেরামতের কোন ব্যবস্থা নেয়নি। যার কারণে বিভিন্ন পয়েন্টে লিকেজ থেকে নির্গত গ্যাসে মানুষের ফেলে দেয়া বিড়ি সিগারেটের আগুন থেকে প্রায় সময় ছোটখটো অগ্নিকান্ড ঘটে থাকে।

ইত্তেফাক/এসআই