জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ও মাইকিং করে দোকানপাট, যান চলাচল, হাটবাজার বন্ধ রাখাসহ সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশনা কার্যকর করতে মাঠে কাজ করছে পুলিশ প্রশাসন। কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে উপজেলার ১৪টি হাটবাজার বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সেইসঙ্গে জনসমাগম ও দলবেঁধে চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে গৃহীত পদক্ষেপের কারণে কর্মহীন হয়ে পড়েছে শ্রমিক ও দিনমজুররা। এ অবস্থায় বিপাকে পড়েছেন শ্রমজীবী মানুষ। গত এক সপ্তাহ ধরে ছয়টি ইউনিয়নের ১৪টি হাটবাজারের বেশির ভাগ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। সেইসঙ্গে ফাঁকা রাস্তাঘাট। রাস্তায় দুই-একটি রিকশা, অটোরিকশা দেখা গেলেও যাত্রী সংকটে ভাড়া পাচ্ছে না অটোচালকরা। বিভিন্ন বাজারে দীর্ঘ অপেক্ষা করে ভাড়া না পেয়ে অটো ও ভ্যানচালকরা ভ্যানের মধ্যেই বসে-শুয়ে দিন কাটচ্ছেন। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে কাঁচাবাজার, ওষুধের দোকান ও নিত্যপণ্যের কিছু দোকান খোলা থাকলেও ক্রেতা না থাকায় সন্ধ্যা ৭টার পর দোকানগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। অটোরিকশাচালক গোলজার হোসেন ও শাওন মিয়া জানান, ‘অটোরিকশা চালিয়ে যে টাকা পাই তা দিয়ে সংসারের খরচ চলে। গত এক সপ্তাহ ধরে করোনার কারণে যাত্রী কম হওয়ায় কামাইও নেই। জানি না, এভাবে আর কতদিন চলবে এবং এখন কীভাবেই বা চলবে পরিবার।’ভ্যানচালক হাক্কু মিয়া, মানিক মিয়া, আব্দুর রহিম ও দীনেশ চন্দ্র রায় জানান, আগে প্রতিদিন ধান-চাল, টিন, রড ও সিমেন্টসহ বিভিন্ন ধরনের মালামাল বহন করে সংসার চালাত। এখন হাটবাজারের দোকানপাট বন্ধ থাকায় তাদের কাজ-কামাইও বন্ধ হয়ে গেছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে বউ বাচ্চা নিয়ে অনাহারে থাকতে হবে তাদের।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সবুজ কুমার গুপ্ত জানান, করোনা ভাইরাস সতর্কতায় দুস্থ ও কর্মহীন শ্রমজীবী মানুষের সহায়তায় সরকার অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে। উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে দুস্থ ও কর্মহীন শ্রমজীবী মানুষের তালিকা করে মোট ১ হাজার ৪৬০টি পরিবারের মধ্যে চাল, আলু, ডাল, লবণ ও সাবান বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন সংগঠন দুস্থ ও শ্রমজীবী মানুষদের পাশে এসে দাঁড়াচ্ছে। সরকারি বরাদ্দ খুব দ্রুত সময়ে আসবে। তাই আবারও নতুন করে দুস্থ ও শ্রমজীবীদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।