র্যাব-পুলিশ ব্যর্থ হলে পদক্ষেপ নেবে সেনাবাহিনী

নির্বাচনে নিয়মিত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ব্যর্থ হলে সেখানে সেনাবাহিনী পদক্ষেপ নেবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী। তিনি বলেন, কোনো জায়গায় পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি যদি ব্যর্থ হয়, সেই ক্ষেত্রে সেনাবাহিনী কাজ করবে। পুলিশিং কাজ কখনোই সশস্ত্র বাহিনী করে না। ‘ইট ইজ আওয়ার লাস্ট রিসোর্স। লাস্ট রিসর্ড’। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।  তিনি বলেন, ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ এর অধীনে সশস্ত্র বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে। তারা সিআরপিসির ১২৭ থেকে ১৩২ ধারার বিধান অনুসারে কাজ করবে। এর বাইরে তাদের কাজ করার কোনো সুযোগ নেই। এবার সেনাবাহিনী মোতায়েনে বাড়তি কোনো নির্দেশনা নেই। আমরা কখনো কোথাও বলিনি সেনাবাহিনী স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবে। আমরা যে প্রজ্ঞাপন দিয়েছি সেখানে সশস্ত্র বাহিনী স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মোতায়েন করা হয়নি। অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরা কেন্দ্রের বাইরে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবে। সেনাবাহিনী নির্বাচনে মোতায়েন আছে। যখন কোনো পরিস্থিতি যদি অন্যান্য বাহিনী সামাল দিতে না পারেন, তখন সশস্ত্র বাহিনী তাত্ক্ষণিকভাবে গিয়ে কাজ করবে।

তিনি জানান, কোস্টাল এরিয়াগুলোতে বাংলাদেশ নৌ-বাহিনী কাজ করবে। একেবারে সীমান্তবর্তী এলাকায় সশস্ত্র বাহিনী কখনো কাজ করে না। সীমান্ত অঞ্চল বাদে সারা দেশে তারা কাজ করবে।

ভোটের মাঠে উত্তেজনা থাকলেও তা নিয়ন্ত্রণে আছে বলে দাবি করে শাহাদাত হোসেন চৌধুরী বলেন, কিছুটা উত্তেজনা অবশ্যই আছে। তবে, এটা নিয়ন্ত্রণে আছে। আমরা সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে নির্বাচন করতে পারব।

বিভিন্ন স্থানে হামলার ঘটনায় ইসির পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, এসব ঘটনায় নির্বাচনী তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন পাঠাচ্ছেন। কিছু কিছু ক্ষেত্রে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে সত্যতা পাওয়া যায়নি। যেসব ক্ষেত্রে সত্যতা পেয়েছে সেখানে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অভিযোগের সত্যতা বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অনেকগুলো অভিযোগের ক্ষেত্রে সত্যতা পাওয়া যায়নি। যেগুলোর ক্ষেত্রে সত্যতা পাওয়া গেছে সেগুলোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

নির্বাচনের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আইন-শৃঙ্খলাসহ অন্য সব বিষয়ে মনিটরিংয়ে আমরা কন্ট্রোল রুম স্থাপন করেছি। সেনাবাহিনীসহ সব বাহিনীর সদস্যরা এখানে কাজ করতে শুরু করেছে। এখান থেকেই আমরা সবগুলো আসনের রিটার্নিং অফিসারের সঙ্গে এফএস রেডিওর মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন করেছি। আদালতের আদেশে শেষ মুহূর্তে কোথাও কোথাও প্রার্থী পরিবর্তন হওয়ায় সেখানে নতুন করে ব্যালটপেপার ছাপতে হচ্ছে।