কুষ্টিয়ার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে সহোদর নিহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার কুমারখালী উপজেলার চাপড়া ইউনিয়ের অন্তর্গত পাহাড়পুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন, বকুল আলী বকুল (৫৫) ও নেহেদ আলী (৬০)। তারা পাহাড়পুর গ্রামের বাসিন্দা। এ ঘটনায় দুই আওয়ামী লীগ নেতাকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, মঙ্গলবার ক্রিকেট খেলা সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জের ধরে চাপড়া ইউপি আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক ও একই ইউনিনের ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ফিরোজ আহম্মেদ কটার সমর্থকদের মধ্যে বাক-বিতণ্ডা হয়। রাতে দুই গ্রুপের সমর্থকদের মধ্যে আবারও বাক-বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষ চলাকালীন দুপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র ও লাঠি নিয়ে একে অপরের উপর আক্রমণ চালায়। এসময় স্থানীয় বাজার থেকে বকুল আলী ও নেহেদ আলী বাড়ি ফেরার সময় দুর্বৃত্তরা তাদের উপর আক্রমণ চালায়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি কুপিয়ে ও গলাকেটে তাদের দুর্বৃত্তরা হত্যা করে। এ ঘটনায় আরো ৮/১০ জন গুরুতর আহত হন। তাদের মধ্যে পাঁচ জনকে কুষ্টিয়া ২৫০ বেড জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাব ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পুনরায় সংঘর্ষের আশঙ্কায় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশ অভিযান চালিয়ে চাপড়া ইউপি আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সাবেক সভাপতি ফিরোজ আহম্মেদ কটাকে আটক করেছে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে বলে জানান কুমারখালী থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান (প্রশাসন ও অপরাধ) জানান, এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এপর্যন্ত দুজনকে আটকের কথা তিনি স্বীকার করেন। আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
কুষ্টিয়ার এসপি এস এম তানভীর আরাফাত জানান, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।